শেরপুর জেলা প্রতিনিধি; সারাদেশের মতো শেরপুরেও তৃতীয় দিনের মতো চলছে কঠোর লকডাউন। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে কঠোর ছিল প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সেনাবাহিনী, বিজিবি, র্যাব, পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দিনভর শহরে টহল দিয়েছেন। হোটেল-রেস্তোরাঁ, নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্য ও ওষুধের দোকান ছাড়া শহরের অধিকাংশ দোকানপাট বন্ধ ছিল। রাস্তা-ঘাট ছিল অনেকটা ফাঁকা।
জেলার পাঁচ উপজেলায় সার্বক্ষণিক লাকডাউন পরিস্থিতি মনিটরিং করতে ভোর থেকে শেরপুরের জেলা প্রশাসক মো. মোমিনুর রশীদ ও স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক এটিএম জিয়াউলসহ অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকগণ ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছেন। প্রশাসনের কড়া অবস্থানের কারণে অনেকেই আজ ঘর থেকে বের হননি। যারা যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া বের হয়েছেন তাদের অনেককে জরিমানার মুখে পড়তে হয়েছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, চলমান লকডাউনে তিনদিনে সরকারী নির্দেশনা অমান্য করায় শেরপুরে ১৯২টি মামলা হয়েছে। একই সময়ে লকডাউন অমান্যকারীদের কাছ থেকে ২ লাখ ২৯ হাজার ৯৩০ টাকা জরিমানা আদায় করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এর মধ্যে প্রথম দিনে ৮৬টি মামলায় ৫২ হাজার ২০ টাকা, দ্বিতীয় দিনে ৪৫টি মামলায় ২৮ হাজার ৮৮০ টাকা ও তৃতীয় দিনে ৬১টি মামলায় ১ লাখ ৪৯ হাজার ৩০ টাকা। ভোর ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত ১৬ ঘণ্টার টানা কর্মতৎপরতায় জেলাজুড়ে ১৪ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে এ জরিমানা করা হয়।
জেলা প্রশাসক মোমিনুর রশীদ বলেন, জনসাধারণকে সরকারি বিধিনিষেধ মানাতে আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সচেতনও করা হচ্ছে। করোনা সংক্রমণের হার কমাতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর অবস্থানেই থাকবে। এ সময়টাতে সবাইকে ঘরেই থাকতে হবে। বিনা কারণে বের হওয়া যাবে না। তবে যাদের খাদ্য সংকট হবে তারা যদি আমাদের জানান তাহলে তাদের খাদ্যসহায়তা দেওয়া হবে।