বলিউডে দ্যুতি ছড়ানো অন্যতম গুণী তারকা বিদ্যা বালান। কত ভক্তের হৃদয়ে প্রতিনিয়তই ঝড় তোলেন তিনি। অথচ বলিউডে তার পথচলাটা মোটেই সুখকর ছিল না। চাপা কষ্ট বুকে নিয়ে প্রতিরাতে ঘুমাতে যেতেন তিনি। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে ক্যারিয়ারের শুরুর সেই কঠিন দিনগুলোর কথা শেয়ার করেছেন বিদ্যা।
১৯৯৫ সালে ‘হম পাঁচ’ ধারাবাহিকে অভিনয়ের মাধ্যমে টেলিভিশনে নাম লেখান তিনি। ২০০৩ সালে ‘ভালো থেকো’ ছবির মাধ্যমে বড় পর্দায় পা রাখেন।
২০০৫ সালে প্রথম হিন্দি ছবি করেন তিনি। ছবির নাম ‘পরিণীতা’। তারপর থেকেই পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে। একের পর এক সুযোগ পেতে থাকেন তিনি।
তবে বিদ্যার এই পথচলাটা সহজ ছিল না মোটেও। প্রত্যাখাত হওয়াটা ছিল তার নিত্য দিনের সঙ্গী। তিনি এতো বেশি প্রত্যাখ্যাত হয়েছিলেন যে কনফিডেন্স হারাতে থাকেন। রাতের পর রাত কাঁদতেন, ঘুমাতে পারতেন না। আজ যে বিদ্যাকে দর্শক দেখেন, সেই জায়গা তৈরি করা মোটেই সহজ ছিল না।
তিনি জানান, ‘আমার দ্বারা কিছু হবে না। এটাই ভাবতাম। দক্ষিণী ইন্ডাস্ট্রিতে বহুবার আমাকে বাতিল করে দেয়া হয়েছে। ২০০২-২০০৩ নাগাদ প্রতিদিন কাঁদতে কাঁদতে ঘুমোতে যেতাম। আমার মনে হতো, আর কখনও অভিনেতা হতে পারবো না। হতাশ লাগত। পরের দিন ভোরে আবার আশা করতাম। ভাবতাম, নতুন একটা দিন মানে নতুন সুযোগ।’
বিদ্যা আরও জানান, বহুবার ব্যর্থ হয়েও আশা ছাড়েননি তিনি। আর এই সাফল্যের জন্য বাবা, মায়ের অবদানের কথাও বারবার স্বীকার করেন। অভিনয় করে বলিউডে নিজের জায়গা তৈরি করেছেন। পরে প্রযোজক সিদ্ধার্থ রায় কাপুরকে বিয়ে করলে বিদ্যার আরও একটি পরিচয় তৈরি হয়। এমনকি চেহারা নিয়েও বহু কটাক্ষ সহ্য করতে হয় তাকে। ভালো অভিনয় করতে গেলে তথাকথিত স্লিম হতে হবে, সেই বাঁধা গতের ধারণাকে ভেঙে দিয়েছেন তিনিই। ফলে তার জার্নি অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।