ঢাকায় স্কুলের সহপাঠী ও শিক্ষকদের বুলিয়িংয়ের ফলস্বরূপ অ্যানোরেক্সিয়া এবং বুলিমিয়ায় আক্রান্ত হয়ে এক কিশোরের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। ফেসবুকে এ সংক্রান্ত একটি পোষ্ট বুধবার রাত থেকে কয়েক হাজার মানুষ শেয়ার করেছেন। শেয়ারকারীদের প্রায় সবাই বডি শেমিং ও বুলিয়িংয়ের প্রতিবাদ এ ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন।
কিশোরের বাবা মোঃ ফজলুল করিম জানান, তার ছেলের ওজন স্বাভাবিকের চাইতে বেশি হবার কারণে, স্কুলে তাকে প্রায় নিয়মিতই বুলিয়িং ও উপহাসের শিকার হতে হত। তিনি বলেন, ২০২০ সালের জুন-জুলাইতে ছেলেটির ওজন ছিল ৯৩ কেজি। এরপর জুলাই মাসের দিকে সে খাবার নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে। ডিসেম্বরে ছেলেটির ওজন দাঁড়ায় ৬০ কেজি। পরিবার ভাবছিল স্বাভাবিক নিয়মে ওজন কমছে ছেলেটির। জানুয়ারির শেষ দিকে ছেলেটির শারীরিক কিছু পরিবর্তন নজরে আসে সবার। তার পায়ের গোড়ালি ফুলে গিয়েছিল, তার স্বাভাবিক প্রাণচাঞ্চল্য হারিয়ে গিয়েছিল এবং সে প্রায়ই অসুস্থ থাকত।
ফেব্রুয়ারিতে তাকে চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া হলে সেখানে ছেলেটি প্রথম জানায় যে সে ইন্টারনেট থেকে কিটো ডায়েট প্রোগ্রাম অনুসরণ করে ওজন কমাচ্ছিল। ওই সময়েই তার মানসিক পরিবর্তনও হচ্ছিল।
তার বাবা বলছেন, ‘সে ডাক্তারকে বলেছে কোন বেলায় সামান্য বেশি খেলে বাথরুমে গিয়ে বমি করে ফেলত। আমরা কেউ বিষয়টি খেয়াল করিনি। ওই সময়টাতে সে খেতে ভয় পেত, আবার যদি ওজন বেড়ে যায়, তাহলে আবার স্কুলে সবাই ক্ষেপাবে এমন একটি ভয় চেপে বসেছিল তার মনে, সেটা সে ডাক্তারের কাছে স্বীকার করেছিল।’
এরপর চিকিৎসকের পরামর্শে ছেলেটিকে একইসঙ্গে মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, ডায়েটিশিয়ান, সাইেকালজিস্ট এবং সাইক্রিয়াটিস্টের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা দেয়া শুরু হয়। কিন্তু ততদিনে তার ইমিউনিটি অর্থাৎ রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা একেবারে কমে গেছে। সেই সঙ্গে তার ওজন দ্রুত কমে যাচ্ছিল। মে মাসের দিকে তার ওজন দাঁড়ায় ২৯ কেজি।
চিকিৎসকেরা বলেছিলেন, ছেলেটি অ্যানোরেক্সিয়া নারভোসা নামে একটি অসুখে ভুগছে। যুক্তরাজ্যের জাতীয় স্বাস্থ্য বিভাগ এনএইচএস বলছে, অ্যানোরেক্সিয়া নারভোসা আহার সংক্রান্ত একটি ব্যাধি, যা নির্দিষ্ট একজন ব্যক্তির মধ্যে মানসিক সমস্যাও তৈরি করে।
এদিকে, নিয়মিত চিকিৎসা এবং মনোবিদের সাহায্যে ছেলেটির ওজন কিছুটা বাড়লেও, শেষ পর্যন্ত জুন মাসের শেষদিকে সে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়। গত ২৫ জুন রাতে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে নিউমোনিয়া নিয়ে ভর্তি করা হয়েছিল ছেলেটিকে। পরদিন রাত ১১টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় সে।
মারা যাওয়া ছেলেটি আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের বনশ্রী শাখায় দশম শ্রেণীর শিক্ষার্থী ছিল। কিন্তু স্কুল কর্তৃপক্ষ বলছে বুলিয়িং এর কোন অভিযোগ সম্পর্কে তারা অবগত নন।