দেশে করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় চলছে কঠোর বিধিনিষেধ। এ বিধিনিষেধের কারণে বন্ধ রয়েছে সরকারি-বেসরকারি অফিস। তবে করোনাভাইরাস সংক্রমণের লাগাম টানতে চলমান লকডাউনে সরকারি অফিসের সব কার্যাবলি ভার্চুয়ালি পরিচালনা করতে নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
রোববার (১১ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব মো. রেজাউল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, করোনাভাইরাসজনিত রোগ সংক্রমণ রোধকল্পে আরোপিত বিধিনিষেধে সব সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি অফিসসমূহ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে ব্যতিক্রম হিসেবে সব জরুরি অফিস ও সেবা চালু রয়েছে। এক্ষেত্রে সব সরকারি দাপ্তরিক কাজসমূহ ভার্চুয়ালি সম্পন্ন করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।
এর আগে গত ১ জুলাই থেকে সাত দিনের কঠোর লকডাউনের প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। সরকারের পক্ষ থেকে এবার বিধিনিষেধ ‘কঠোর’ই করার কথা বলা হয়। প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হলেই গ্রেপ্তার করার কথা বলে পুলিশও। বিধিনিষেধ মানতে বাধ্য করতে মাঠে নামানো হয় সেনাবাহিনীও। এরপর ৫ জুলাই বিধিনিষেধের (লকডাউন) মেয়াদ আরও এক সপ্তাহ বাড়িয়ে ১৪ জুলাই পর্যন্ত করা হয়।
এদিকে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত দেশে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৪১৯ জনে।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা শনাক্ত হয়েছেন ১১ হাজার ৮৭৪ জন। এ নিয়ে দেশে মোট করোনা শনাক্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১০ লাখ ২১ হাজার ১৮৯ জনে। রোববার বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৬ হাজার ৩৬২ জন। এ নিয়ে মোট সুস্থ হয়েছেন ৮ লাখ ৭৪ হাজার ৫০১ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ৪০ হাজার ১৫ জনের নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ২৯ দশমিক ৬৭ শতাংশ।
এর আগে গতকাল ১০ জুলাই দেশে সর্বোচ্চ ১৮৫ জনের মৃত্যু হয়। এছাড়াও চলতি মাসেই ৯ জুলাই ২১২, ৮ জুলাই ১৯৯ জন, ৭ জুলাই ২০১ জন, ৬ জুলাই ১৬৩ জন, ৫ জুলাই ১৬৪ জন, ৪ জুলাই ১৫৩ জন, ৩ জুলাই ১৩৪ জন, ২ জুলাই ১৩২ এবং ১ জুলাই ১৪৩ জন করোনায় মৃত্যুবরণ করেন।