দেশে করোনার পাশাপাশি চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৭৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। যার মধ্যে ৭৪ জনই রাজধানীর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
সোমবার (১৯ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের স্বাস্থ্য তথ্য ইউনিটের (এমআইএস) সহকারী পরিচালক ও হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন অ্যান্ড কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. কামরুল কিবরিয়া স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানা গেছে।
কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় (১৯ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত) ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের হাসপাতালে নতুন ৭৫ জন রোগী ভর্তি হয়েছেন। তাদের মধ্যে ঢাকায় ৭৪ জন এবং ঢাকার বাইরে একজন।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে ৪০৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে ঢাকার ৪১টি সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ৩৯৮ জন এবং অন্যান্য বিভাগে ৫ জন রোগী ভর্তি আছেন।
এ বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুতে ৩ জনের মৃত্যুর তথ্য পর্যালোচনার জন্য রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে (আইইডিসিআর) পাঠানো হয়েছে।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত মোট ১ হাজার ২৮২ ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে ৮৭৭ রোগী ছাড়া পেয়েছেন।
এদিকে, রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী সংখ্যা বাড়ায় শঙ্কা প্রকাশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তাই জ্বরে আক্রান্ত হলেই করোনার পাশাপাশি ডেঙ্গু পরীক্ষারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে করোনা মহামারির উচ্চ সংক্রমণের (২৯%) সময় ডেঙ্গু রোগের প্রকোপ দেখা দিয়েছে। এ দুই ভাইরাস বাহিত রোগের জন্য আমাদের জীবনযাপন বিপর্যস্ত। স্বাস্থ্যসেবার ওপর চাপ ক্রমেই বেড়ে চলেছে।
করোনা ও ডেঙ্গু রোগের লক্ষণে কিছু কিছু মিল থাকলেও অমিল অনেক। করোনার ক্ষেত্রে শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যা হতে পারে, যেটা ডেঙ্গুতে দেখা যায় না।
ডেঙ্গু জ্বরের ক্ষেত্রে চার-পাঁচ দিন পরে শরীরে লাল র্যাশ হতে পারে। সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার হচ্ছে ডেঙ্গু ‘শক সিন্ড্রোম’, যাতে রোগীর মৃত্যু হতে পারে।
করোনার লক্ষণসমূহ পরিবর্তনশীল। করোনার ভ্যারিয়েন্টের ওপর নির্ভর করে লক্ষণ পরিবর্তিত হয়।
করোনার সাধারণ লক্ষণসমূহ:
১। জ্বর
২। কাশি
৩। অবসাদগ্রস্ত
৪। গলা ব্যথা, নাকে পানি
৫। শ্বাসকষ্ট
৬। নাকে ঘ্রাণ না পাওয়া
৭। খাবারের স্বাদ না পাওয়া
ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণসমূহ:
১। প্রচণ্ড জ্বর
২। তীব্র মাথা ব্যথা
৩। বমি
৪। শরীরে লাল র্যাশ ওঠা
৫। মাংসপেশীতে ব্যথা
৬। চোখের পেছনে ব্যথা
করোনার নতুন লক্ষণসমূহ:
১। ফোলা জিহ্বা, বুকে হালকা ব্যথা
২। চোখ জ্বালাপোড়া, হাত ও পায়ের আঙুলের রঙ ফ্যাকাশে হওয়া
৩। হাতের তালুতে জ্বালাপোড়া
৪। মাথা ব্যথা, গলা ব্যথা
৫। পায়ের তালুতে লালচে ভাব
৬। ডায়রিয়া, মুখে ঘা, চামড়ায় র্যাশ
এ দুই রোগ থেকে আমাদের পরিত্রাণ পেতে হলে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সঙ্গে জড়িত সবাইকে কার্যকরী Public Health Measure নিতে হবে। সঙ্গে সঙ্গে জনগণকে স্বাস্থ্যবিধি মানাসহ অন্য বিধিনিষেধগুলো গুরুত্বের সঙ্গে পালন করতে হবে ও সম্পৃক্ত হতে হবে।
করোনা প্রতিরোধে করণীয়:
১। সব সময় সঠিক নিয়মে মাস্ক পরিধান করা
২। শারীরিক দূরত্ব বা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা
৩। প্রতি ঘণ্টায় সাবান পানি বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধোয়া
৪। প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে না যাওয়া, ভিড়ের স্থান এড়িয়ে চলা
৫। হাঁচি কাশি দেওয়ার সময় টিস্যু পেপার/ রুমাল /হাতের কনুই ব্যবহার করা। নিয়মিত বাসা ও কাজের জায়গা পরিষ্কার রাখা।
৬। মাছ, মাংস ভালোভাবে রান্না করে খাওয়া
৭। করোনা টিকা গ্রহণ করা।
ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয়:
১। মশার প্রজনন স্থল ধ্বংস করা
২। ঘর ও আশপাশের যে কোনো পাত্রে বা জায়গায় জমে থাকা পানি পরিষ্কার করা যাতে এডিস মশার লাভা বিস্তার না করতে পারে।
৩। ফুলের টব, প্লাস্টিকের পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার, প্লাস্টিকের ড্রাম, মাটির পাত্র, বালতি, টিনের কৌটা, ডাবের খোসা, নারকেলের মালা, কনটেইনার, মটকা, ব্যাটারি সেল ইত্যাদি প্রতিনিয়ত পরিষ্কার করা; যাতে এডিস মশা বিস্তার না করতে পারে।
৪। রাতে বা দিনে ঘুমানোর সময় মশারি ব্যবহার করা
৫। স্বাস্থ্যকর পরিবেশ স্থাপন করা
৬। মশা নিধনের ওষুধ, স্প্রে কিংবা কয়েল ব্যবহার করা
৭। জানালাতে মশা প্রতিরোধক নেট ব্যবহার করা
#somoynews