হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বাবার আদর মায়ের ভালোবাসাতেও থামছে না সুমাইয়ার কান্না। নিষ্পাপ এই প্রাণের তৃতীয় জন্মদিন কেটেছে হাসপাতালের বিছানায়। ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার পরে অবস্থার অবনতি হতে থাকে সুমাইয়ার। জ্বরের পাশাপাশি রক্ত আসে নাক দিয়েও। অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলেও রক্তের প্লাটিলেট আশানুরুপ হয়নি এখনও। ছোট্ট এই প্রাণের একটাই চাওয়া হাসপাতালের বাইরে যাবে।
চিকিৎসকরা বলছেন, গত এক সপ্তাহে প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে রোগী ভর্তির সংখ্যা। কঠোর বিধি নিষেধের সময়ে বাসাবাড়িতে থাকায় এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুরাই আক্রান্ত হচ্ছে বেশি। আক্রান্তের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে স্কুল পড়ুয়া বাচ্চারা।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত এক শিশু বাবা বলেন, আমার মেয়েশিশুটি কিছু খাচ্ছে না, এখানে থাকবো না বাসায় যাবো। কষ্টটা সেই বুঝতে পারছে। বাইরে থেকে অন্য কেউ বুঝতে পারবে না।
শিশুটি মা জানান, নাক দিয়ে রক্ত ঝরছে। প্রেশার রাতে বেশি ছিল, এখন অনেক কমে গেছে। প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি। কিন্তু দুইদিনে সেখানে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা বিল দিয়েছি। অর্থ সমস্যার কারণে এখন সরকারি হাসপাতালে নিয়ে এসেছি।
শিশুসহ সব বয়সীদের জ্বর দেখা দিলেই করোনা ও ডেঙ্গু পরীক্ষার পরামর্শ বিশেজ্ঞদের। এছাড়া বিপদ চিহ্ন দেখা দিলেই হাসপাতালে নেওয়ার তাগিদ দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।
ঢাকা শিশু হাসপাতালের সহকারী অধ্যাপক ডা. রিজওয়ানুল আহসান বিপুল জানান, বাসায় যদি হাইজিন মেন্টেইন না করি। পরিষ্কার-পরিছন্ন বজায় না রাখি, তাহলে কিন্তু ডেঙ্গুর প্রকোপ দিনদিন বাড়তে থাকবে। ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে পেটে ব্যথা, বমি, মাথা ব্যথা ও ইউরিন আউটপুট কমে যেতে পারে। এসব লক্ষণ দেখা দিলে শিশুকে অবশ্যই হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে।
বর্তমানে ডেঙ্গুর যে প্রকোপ দেখা দিয়েছে, তা যদি বাড়তে থাকে তাহলে গত ২০১৮ সালে যে রেকর্ড হয়েছিল। তা কিন্তু অতিক্রম করতে পারে।
ডেঙ্গু প্রকোপের এ সময়ে বাসাবাড়িতে অব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্রে পানি জমতে না দেওয়াসহ দিনে ও রাতে মশারি টানানোর পরামর্শ বিশেজ্ঞদের।