রাজধানীতে করোনার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। এই ভর্তি রোগীর অধিকাংশ ঢাকার বাসিন্দা। এ অবস্থায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস।
রোববার (১ আগস্ট) বিকেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনের মেয়র হানিফ অডিটোরিয়ামে ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম জোরদারকরণ’ বিষয়ে মতবিনিময় সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ২০১৯ সালের ডেঙ্গুর তুলনায় এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তার পরও আমরা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছি। আজকের এ মিটিংয়ে কাউন্সিলরদের নিয়ে আলোচনা করেছি।
সোমবার (২ আগস্ট) থেকে মশা নিধনে আরও জোরালো কার্যক্রম শুরু হবে।
মেয়র বলেন, এখন প্রতিটি ওয়ার্ডকে ছোট ছোট এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হবে। এসব এলাকায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, কাউন্সিলর, মশক সুপারভাইজাররা অভিযান চালাবেন। এছাড়া ডেঙ্গু পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে সোমবার নগর ভবনে কন্ট্রোল রুম স্থাপন করা হবে।
সরকারি আবাসনে এডিস মশা বেশি উল্লেখ করে তাপস বলেন, ডিএসসিসি এলাকায় অনেক সরকারি আবাসন রয়েছে। এসব আবাসনে এডিসের প্রজনন বেশি। তাই সংশ্লিষ্টদের এ বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আশা করি, আগামী ১৫ আগস্টের আগেই মশা নিয়ন্ত্রণে আনতে পারব।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মেয়র ব্যারিস্টার শেখ ফজলে নূর তাপসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। এছাড়া মন্ত্রণালয় ও সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং কাউন্সিলররা অংশগ্রহণ করেন।
এদিকে রোববার (১ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় রেকর্ড ২৩৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকাতেই ২১৯ জন। শনিবার (৩১ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে রোববার (১ আগস্ট) সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় এ রেকর্ড সংখ্যক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, ঢাকার ৪১টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে সর্বমোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৮২৮ জন। অন্যান্য বিভাগে রোগীর সংখ্যা ৩৪ জন। সব মিলিয়ে মোট রোগীর সংখ্যা ৮৬২ জন।
চলতি মৌসুমে শুধু শিশু হাসপাতালেই ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৪ শিশু মারা গেছে। এখন পর্যন্ত সারাদেশে আক্রান্ত আড়াই হাজার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবহাওয়া এডিস মশার উপযোগী হওয়ায় চলতি মাসে আরও বাড়বে ডেঙ্গুর প্রকোপ। এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে পরিস্থিতি চলে যেতে পারে নিয়ন্ত্রণের বাইরে।
করোনা মহামারিতে বিপর্যস্ত দেশে এখন চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু। যার সবচেয়ে বড় হটস্পট ঢাকা। শিশু ও বয়স্করাই আক্রান্ত হচ্ছে সবচেয়ে বেশি। ঢাকা শিশু হাসপাতালে এখন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি আছে ২৮ শিশু। করোনায় ঘরবন্দি সময়ে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে তারাই।
চিকিৎসকরা বলছেন, যারা দ্বিতীয়বার আক্রান্ত হচ্ছেন তাদের ঝুঁকি আরও বেশি। আর করোনার কারণে হাসপাতালে বাড়তি চাপ থাকায় ডেঙ্গু চিকিৎসা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের।
ডাক্তাররা বলছেন, কাছে থেকে জিনিসগুলো অবলোকন করছি। তাদের জন্য আসলেই এটা মৃত্যুপুরী। পুরো ঢাকাতেই ছড়িয়ে পড়ছে ডেঙ্গু। আমরা এখনই যদি ব্যবস্থা নিতে না পারি, তবে এটা আরও মারাত্মক হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আবহাওয়া এডিস মশার বংশবিস্তারের উপযোগী হওয়ায় চলতি মাসে আরও বাড়তে পারে ডেঙ্গুর ভয়াবহতা। বাসাবাড়ির পাশাপাশি বিভিন্ন বাস টার্মিনালে মিলছে লার্ভা।
এদিকে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে চিরুনি অভিযান চালাচ্ছে দুই সিটি করপোরেশনের।