মিরপুরের টার্নিং আর মন্থর পিচে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া ভুগছেন রান খরায়। বোলাররা দলকে ঠিকঠাক সাফল্য এনে দিলেও ব্যাটারটা তাদের কাজটা ঠিকঠাক করতে পারছেন না বলে মানছেন অজি অধিনায়ক ওয়েড। তবে মারমার-কাটকাট এই ফরম্যাটে অজিদের খোলশে আবৃত করে রাখছে বাংলাদেশি বোলাররা। ওয়েড-হেনরিকসদের ভোগাচ্ছে বিশেষত টাইগার স্পিনাররা।
শেরে বাংলার মাঠে অস্ট্রেলিয়ানদের বিশ্বসেরা দুই স্পিনার খুব একটা ভালো করছেন না। সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচে অ্যাডাম জাম্পা-অ্যাশটন অ্যাগারদের ঝুলিতে মাত্র ৩ উইকেট। অন্যদিকে, সাকিব-নাসুম-মেহেদী তুলে নিয়েছেন অজিদের ৮ উইকেট। বাংলাদেশি স্পিনারদের সাথে তুলনা করে নিজেরা কেন ভালো করতে পারছেন না তার কারণ দাড় করিয়েছে অজি স্পিনার অ্যাশটন অ্যাগার। অ্যাগারের মতে, টাইগার স্পিনাররা তাদের ছোট উচ্চতার সম্পূর্ণ সুবিধা নিচ্ছে।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে অ্যাগার বলেন, তারা (টাইগার স্পিনাররা) অনেক বেশি স্টাম্পে বল করে। তারা বল অনেক সময় বাতাসে ভাসিয়ে রাখতে পারে কারণ তাদের ছোঁড়া বল উঁচ জায়গা থেকে নিচে আসার পরিবর্তে নিচ থেকে উপরে আসছে।
বাংলাদেশি স্পিনারদের থেকে অ্যাগার তাদের বোলারদের পার্থক্য খুঁজে পেয়েছে। ‘বাংলাদেশি স্পিনাররা বিভ্রান্তিকর লেংথে বোলিং করে। ওরা বলকে বাউন্স করানো, নিচু করে দেওয়া, বাতাসে বেশিক্ষণ বল ভাসিয়ে রাখার ক্ষমতা রাখে। মূলত এটিই ওদের সঙ্গে আমাদের পার্থক্য গড়ে দিয়েছে।’
অস্ট্রেলিয়ান স্পিনাররা গত দুই ম্যাচে ৫.৬০ রান করে দিলেও বাংলাদেশিরা ছিলো একটু কৃপণ। ৫.৫৮ গড়ে ওভারপ্রতি রান দিলেও টাইগার স্পিনাররা সাধারণত ম্যাচের শুরুর দিকে বল করেছে। ১৬৭ সেন্টিমিটার উচ্চতার তরুণ স্পিন অলরাউন্ডার মেহেদি হাসান ছিলো আরো বেশি মিতব্যায়ী। সে বেশির ভাগ সময় পাওয়ার প্লে-তে বল করে রান দিয়েছে ওভারপ্রতি মাত্র ৪.৮৫ রান। টাইগারদের টানা জয়ে অজি ব্যাটারদের রানের চাকাটা মন্থর করে রেখেছে টাইগার স্পিনাররাই।
অ্যাগার সিরিজের পরের ম্যাচ গুলোতে পাওয়ার প্লে-তে বোলিং কৌশলে পরিবর্তন আনার পরামর্শ দিয়েছে। এই উইকেটে প্রথম ৬ ওভার স্পিনাররা করলে ভালো করবে মানছেন অ্যাগার। তিনি বলেন, ‘এটা একটা অনিশ্চিত পরিবেশ- এখানে বল একটা স্কিড করলে অন্যটা স্পিন- স্পিনে যত ভালো খেলোয়াড়ই হোক তার এখানে খেলা কঠিন।’
শেরে বাংলার এই পিচে স্পিনারদের জন্য উইকেট নেওয়ার খুব ভালো সুযোগ হিসেবে দেখছেন অজি স্পিনার অ্যাশটন অ্যাগার।