দীর্ঘ ২১ বছরের সম্পর্ক ছিন্ন করে বার্সোলোনাকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় জানালেন ছয়বারের ব্যালন ডি’অর জয়ী আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসি। আজ শেষবারের মতো ন্যু ক্যাম্পে উপস্থিত হয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসে তার পুরোনো বনে যাওয়া ক্লাবকে বিদায় জানান এই তারকা ফুটবলার।
করোনাভাইরাসের কারণে দর্শকহীন মাঠে বিদায় নেন এই ফুটবল সুপারস্টার। নিজের বক্তব্যের সময় কাঁদতে কাঁদতে বললেন, ‘দেড় বছর ধরে মাঠে আমাদের সমর্থকদের পাইনি। তাদের না দেখে বিদায় নিতে হচ্ছে, এই ব্যাপারটাই বেশি কষ্ট দিচ্ছে। তবে আমি এখানে আবার ফিরব, এটা আমার ঘর। আমার সন্তানদেরও আমি কথা দিয়েছি, আমি আবার ফিরে আসব।’
বিদায়ী সংবাদ সম্মেলনে এসে শুরুতেই কান্নায় ভেঙে পড়েন মেসি। বিচ্ছেদের সেই কান্না থামিয়ে নিজের বক্তব্য শেষ করেন মেসি। প্রশ্ন-উত্তর পর্বের আগেই আবার কান্না শুরু করেন মেসি। সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে মেসি বলেন, ‘এভাবে বিদায় নিতে হবে কখনো ভাবিনি। মনে হয় না কেউই ভেবেছে। চেয়েছিলাম মাঠভর্তি দর্শকের শেষ একবারের অভ্যর্থনার মধ্যে বিদায় নিতে।
১৩ বছর বয়সে বার্সোলোনায় পা রেখেছিলো মেসি। আর ২১ বছর পর ক্লাবটা ছেড়ে যাচ্ছে। তবে পুরো ক্যারিয়ারে তার সবথেকে কঠিন মুহুর্ত হিসেবে দেখছেন নিজের অভিষেকটাকে। ‘এত এত মুহূর্তের মধ্যে কোনো একটি বেছে নেওয়া কঠিন। কত শত দারুণ মুহূর্ত কেটেছে, কিছু কঠিন মুহূর্তও ছিল। তবে একটি বেছে নিতে হলে আমি বলব, আমার অভিষেক। সেখান থেকেই সবকিছুর শুরু, আমার প্রথম স্বপ্ন পূরণ।’
নিজের ক্লাবের জন্য যা করেছেন তা নিয়ে মেসি অনেক বেশি গর্বিত। গতবছর ক্লাবকে ছাড়তে চাইলেও এ বছরে চাইছিলেন প্রিয় ক্লাবে থেকে যেতে। কিন্তু ছোট্ট একটা বিবৃতিতে মেসির বিদায়ের কথা জানায় ফুটবল ক্লাব বার্সেলোনা। ৯৯ শব্দের ওই বিবৃতির মাধ্যমেই ২১ বছরের সম্পর্কের ইতি ঘটেছে বার্সা-মেসির।
তবে শেষবারে ক্যাম্প ন্যু-র হয়ে থাকা মেসিকে দেখতে স্টেডিয়ামটির সামনে ভিড় করেছেন অসংখ্য বার্সেলোনা সমর্থকরা। মেসিও চাইছিলেন না এমন বিদায়। তবে সবকিছুর জন্য গর্বিত বার্সার তারকা। তিনি চান, সবাইকে সম্মান দেখিয়েই যেভাকে এই ক্লাবে বেড়ে উঠেছে তেমনি মানুষও যেন তাকে সেভাবেই মনে রাখুক। পাশাপাশি তার চাওয়া মাঠের মেসিকেও যেন তার সমর্থকসহ সবাই মনে রাখেন।