পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) প্রধান ব্যারিস্টার মাহবুবুর রহমান বলেছেন, আপনারা জানেন সম্প্রতি ঢাকার বেশ কিছু জায়গায় অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। কিছু মালামাল জব্দসহ কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। এ সংক্রান্ত মোট মামলা হয়েছে ১৫টি, যার মধ্যে সিআইডিতে তদন্তাধীন ৮টি।
এসব মামলায় মোট ১০ জন আসামি রয়েছেন, যার মধ্যে আটজন এখন আমাদের কাছে। দুজন অন্য মামলায় রিমান্ডে আছেন। তাদের রিমান্ড শেষে আমাদের কাছে নিয়ে আসব। এই ৮টি মামলায় আসামিরা আমাদের কাছে রিমান্ডে ছিল, কিন্তু আরও কিছু জিজ্ঞাসাবাদ থাকায় তাদের আজ আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড আবেদন করলে তা মঞ্জুর হয়। নতুন রিমান্ডে আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, তাদের কাছ থেকে বিভিন্ন পয়েন্ট ও বেশকিছু প্রশ্ন আমাদের জানার আছে। সেসব বিষয় আমরা জিজ্ঞাসাবাদে পরিষ্কার হব আসামিদের কাছ থেকে।
মঙ্গলবার (১০ আগস্ট) বিকেলে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
এ ঘটনায় বিভিন্ন জাগায় অভিযান ও সার্চ করেছি। এসব অভিযানে তিনটি জিপ, একটি ফেরারি কার, একটি বিএমডব্লিউ কার ও একটি গাড়িসহ মোট ছয়টি গাড়ি জব্দ করেছি। এছাড়া বেশকিছু মোবাইল, ল্যাপটপ ও ইলেকট্রনিকস ডিভাইসসহ নানারকম নথি জব্দ করেছি।
তিনি বলেন, জব্দ হওয়া ডিভাইসগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা শুরু করেছি। যেসব লিকার (মদ) পাওয়া গেছে সেগুলোর রাসায়নিক পরীক্ষা চলছে। রিমান্ডে যারা এতদিন ছিল তাদের আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। বিভিন্ন রকম তথ্য পেয়েছি। আশা করছি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তদন্ত শেষ করে ফেলতে পারব। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই মামলাগুলো শেষ করতে হবে।
এর মধ্যেই বিভিন্ন গণমাধ্যমে দেখেছি বিভিন্ন জনের নাম আসছে। তবে কারা জড়িত তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাব। এভাবে যদি খণ্ডচিত্র আসে তাহলে অনেকের সম্মানহানি হবে ও বিব্রত হবেন।
তিনি আরও বলেন, মাদক সংক্রান্ত অভিযোগ ছাড়া পরীমনিসহ বাকি আসামিদের বিরুদ্ধে অন্য কোনো অভিযোগ আছে কিনা জানতে চাইলে সিআইডি প্রধান বলেন, তদন্তের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু নীতিমালা আছে আমরা সেই বিষয়গুলো সামনে রেখেই এগোচ্ছি। আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে, জিজ্ঞাসাবাদ শেষে বুঝতে পারব মামলা কোনদিকে যাবে।
‘আমাদের তদন্ত একদম পরিষ্কারভাবে চলছে, আগে থেকে কোনো নির্দিষ্ট বিষয়কে মাথায় রেখে তদন্ত করিনি। যেহেতু আসামিদের কাছ থেকে নানা রকম মালামাল জব্দ করা হয়েছে, সেগুলো কোথা থেকে এসেছে, কারা টাকা দিয়েছে এবং উৎস কোথায় তা খোঁজ নিচ্ছি।’
আসামিদের সম্পত্তির বিষয়ে খোঁজ নেয়া হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে তদন্ত করেছি। এ সংক্রান্ত নানা রকম তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, জব্দ হওয়া গাড়িগুলো কার কার জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত যেই ৬টি গাড়ি জব্দ করা হয়েছে সেগুলো কাদের নামে আছে তার তথ্য জানতে বিআরটিএতে যোগাযোগ করেছি। এছাড়া গাড়িগুলো কোথা থেকে এসেছে এবং দেশে এগুলো সঠিকভাবে আনা হয়েছে কিনা তাও তদন্ত করে দেখছি। তবে পরীমনির বাসা থেকে একটি গাড়ি জব্দ করেছি।
jagonews24
বাকিদের বিষয়ে মামলার তদন্ত মাদক পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকবে নাকি অন্য কোনো দিকেও যেতে পারে প্রশ্ন করা হলে সিআইডি প্রধান বলেন, তদন্ত কোনো দিন একদিকে সীমাবদ্ধ থাকে না। যখন তদন্ত করতে যায়, তখন এর পারিপার্শ্বিক সব বিষয়কে সামনে রেখে তদন্ত করতে হয়। আদালতে যখন আমরা রিপোর্ট জমা দেব তখন আমাদের পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট জামা দিতে হবে।
সিআইডি প্রধান বলেন, কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি অভিযোগ করছেন সম্প্রতি ঘটে যাওয়া অভিযানের ইস্যুকে কেন্দ্র করে তাদের হয়রানি করা হচ্ছে, তারা এ বিষয়ে পুলিশের অন্যান্য ইউনিটের কাছে অভিযোগ করেছেন। এতে মামলার তদন্ত বাধাগ্রস্ত হবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, যদি কেউ মনে করে তাদের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে তাহলে তারা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। আমরা যদি তদন্তের স্বার্থে কাউকে না ডাকি তাহলে আপনি মনে করবেন এই মুহূর্তে আপনি ওয়ান্টেড নয়। যদি আপনাকে আমাদের প্রয়োজন হয় এবং আপনার বিরুদ্ধে অভিযোগ থেকে থাকে তাহলে আমরা আপনাকে ডাকব। কেউ যদি মিথ্যা বলে ডাকে তাহলে আমাদের কাছে এসে বললে আমরা আইনি পদক্ষেপ নেব।
এ মামলায় আসামিদের ছাড়া অন্য কাউকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে কিনা ও আসামিদের বিরুদ্ধে কেউ প্রতারণা করেছে কিনা জানতে চাইলে সিআইডি প্রধান বলেন, প্রতারণা কিছু তথ্য আমরা পেয়েছি, তবে তা অভিযোগ আকারে নয়। তথ্য পেয়েছি আসামিরা অনেকের সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। এছাড়া মামলার তদন্তের স্বার্থে অনেককে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি। তদন্তের স্বার্থে এই মুহূর্তে তাদের নাম বলতে চাচ্ছি না।
এখন পর্যন্ত কতজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, তদন্ত শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাব। কারণ তদন্ত এখনো চলমান। এছাড়া প্রয়োজন হলে আমরা অনেককে ডাকতে পারি।
এ মামলা সংক্রান্ত কারও বিরুদ্ধে বিদেশ যাত্রায় নিষেধাজ্ঞা আছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রয়োজন পড়লে বিদেশ যাত্রার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত নিতে পারি। অফিসিয়ালি কারও বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়নি। কয়েকজনকে এ বিষয়ে নজরদারিতে রাখা হয়েছে। তথ্য যাচাই-বাছাই ছাড়া এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে পারি না।
কোনো ধরনের তালিকা তৈরি হচ্ছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী তালিকা তৈরি করার সুযোগ নেই।