করোনাভাইরাস ভ্যাকসিনের বুস্টার বা তৃতীয় ডোজের অনুমোদন দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) এ ঘোষণা দিতে পারে।
সম্ভাব্য এই সিদ্ধান্তের কথা প্রথম জানিয়েছে এনবিসি নিউজ। তবে যাদের শারীরিক জটিলতা ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা দুর্বল তারাই এই ডোজ পাবে।
সিএনএনের খবরে বলা হয়েছে, মডার্না ও ফাইজারের টিকার ক্ষেত্রে তৃতীয় ডোজ দেওয়া হবে। এ প্রসঙ্গে এফডিএর এক মুখপাত্র বলেন, দুর্বলদের তৃতীয় ডোজ দেওয়ার ব্যাপারে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ চলছে। এফডিএ ও সিডিসি (রোগনিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্র) খুব শিগগিরই এসব তথ্য প্রকাশ করবে।
এ বিষয়ে এনবিসির খবরে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসকরা বলেছেন, টিকা নেওয়ার পরও অনেকে এখনো ঝুঁকিপূর্ণ। তাদের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা এখনো দুর্বল।
সিডিসির তথ্যসূত্রে জানা গেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ৯০ লাখ মার্কিনির করোনা প্রতিরোধ ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে। এটা তাদের বিভিন্ন জটিল রোগ ও ওষুধ নেওয়ার কারণে হয়েছে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের এক তৃতীয়াংশ লোক এখনো প্রথম ডোজেরই টিকা নেয়নি। এ অবস্থায় বাইডেন প্রশাসন ভাবছে, আগামী সেপ্টেম্বরে বুস্টার ডোজ শুরু করা যায় কিনা।
তবে তৃতীয় ডোজের জন্য অনুমোদন একমাত্র দিতে পারে এফডিএ। সংস্থাটি থেকে অনুমোদন পাওয়ার পর সেটা যাবে সিডিসির কাছে। সিডিসি জানাবে সেটির প্রয়োজন আছে কি না।
এদিকে স্থানীয় সময় শুক্রবার (১৩ আগস্ট) সিডিসির টিকাবিষয়ক উপদেষ্টারা এ নিয়ে একটি বৈঠকে বসবেন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, গত মে মাসে উচ্চ-আয়ের দেশগুলো প্রতি ১০০ জনের বিপরীতে ৫০ ডোজ টিকা প্রয়োগ করেছে। এই সংখ্যা এখন দ্বিগুণ হয়েছে। কিন্তু নিম্ন আয়ের দেশে ১০০ জনের বিপরীতে দেড় ডোজও টিকা জোটেনি। কেবল সরবরাহ ঘাটতির কারণে।
গত ৫ আগস্ট সংস্থাটির প্রধান টেড্রোস আধানম গেব্রায়েসিস বলেন, এখন উচ্চ আয়ের দেশে যাওয়া বেশি টিকা নিম্ন আয়ের দেশের সিংহভাগ মানুষের কাছে পৌঁছানো জরুরি। এ অবস্থায় টিকার তৃতীয় ডোজ বন্ধ করতে হবে।
এর আগে গণমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে মার্কিন শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞ ও প্রেসিডেন্ট বাইডেনের চিকিৎসা উপদেষ্টা ডা. অ্যান্থনি ফাউসি করোনা থেকে রক্ষা পেতে ঝুঁকিপূর্ণ বা কঠিন রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের টিকার বুস্টার ডোজ নেওয়ার পক্ষেই মত দিয়েছিলেন।
করোনায় এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ও মৃত্যু হয়েছে বিশ্বের ক্ষমতাধর দেশ যুক্তরাষ্ট্রে। তালিকায় শীর্ষে থাকা দেশটিতে এখন পর্যন্ত করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন ৩ কোটি ৭০ লাখ ৫৫ হাজার ৯১৬ জন। মৃত্যু হয়েছে ৬ লাখ ৩৫ হাজার ৬৩৬ জনের।
আক্রান্তে দ্বিতীয় ও মৃত্যুতে তৃতীয় অবস্থানে থাকা ভারতে এখন পর্যন্ত মোট সংক্রমিত হয়েছেন ৩ কোটি ২০ লাখ ৭৬ হাজার ৯৭৪ জন এবং এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যু হয়েছে ৪ লাখ ২৯ হাজার ৭০২ জনের।