মাদক মামলায় গ্রেপ্তার নায়িকা পরীমণি এখন কারাগারে। শুক্রবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যায় প্রিজন ভ্যানে করে তাকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়।
গত ৪ আগস্ট চার ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে নিজ বাসা থেকে প্রথমে আটক করা হয় পরীমণিকে। পরে তার বিরুদ্ধে মাদক মামলা হয়। মামলায় দুই দফা রিমান্ডে দেওয়ার পর বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) তৃতীয় ধাপে তাকে আদালতে তোলা হয়। এদিন জামিনের আবেদন করা হলেও সেটা নামঞ্জুর করেন আদালত। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিকে গ্রেপ্তারের পর পরীমণিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুরু হয় আলোচনা-সমালোচনা। চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিও পরীমণির সদস্যপদ সাময়িক স্থগিত করে। এমন সিদ্ধান্তে প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই।
এতদিন পরীমণির বিপক্ষে সবাই কথা বললেও ধীরে ধীরে অনেকে তার হয়ে কথা বলছেন, চাচ্ছেন ন্যায় বিচার। ‘জাস্টিস ফর পরীমণি’ লেখা পোস্টার ফেসবুকে শেয়ার করে প্রতিবাদ করছেন অনেকেই। এবার পরীমণি ইস্যুতে কথা বললেন আলোচিত অভিনেত্রী রাফিয়াত রশিদ মিথিলা।
মিথিলা সম্প্রতি কলকাতায় সিনেমার কাজে ভারতে রয়েছেন। সেখান থেকেই গণমাধ্যমের কাছে মিথিলা বলেন, এই মুহূর্তে আমি বাংলাদেশে নেই। তাই পরীমণির বিষয়টা নিয়ে ঠিক কী কী ঘটে চলেছে, তা বিস্তারিত জানি না। তবে পরীমণিকে নিয়ে যে মিডিয়া ট্রায়াল হচ্ছে, আমি সেটা একেবারেই সমর্থন করি না। যতরকমভাবে তাকে অপদস্থ করা যায়, করা হচ্ছে।
মিথিলা আরও বলেন, পরীমণির ক্ষেত্রে সমস্ত মতামত দুইভাগে বিভক্ত, এটা সব ক্ষেত্রেই হয়। শুধু পরীমণি কেন, ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করে এমন যেকোনও মেয়েকে নিয়ে কিছু ঘটলেই মিডিয়া ট্রায়াল শুরু হয়ে যায়। এটা অবশ্য শুধু বাংলাদেশ নয়, পৃথিবীর সর্বত্রই হয়ে থাকে। কেউ কিছু করলেই, তার লাইফস্টাইল, ব্যক্তিগত জীবন থেকে শুরু করে বিভিন্ন কিছু খুঁড়ে খুঁড়ে বের করার চেষ্টা হয়। পুরুষতান্ত্রিক দিক থেকে সেটার বিচার করা হয়, যেটা একেবারেই ঠিক নয়।
পরীমণির বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে মিথিলা বলেন, সমাজের সার্বিক উন্নতিতে সংবাদ-মাধ্যমের একটা বড় ভূমিকা রয়েছে। সেটা না দেখে, মহিলা সংক্রান্ত কিছু হলেই তাতে ঝাঁপিয়ে পড়া হয়, এটা কেন? ন্যায়-অন্যায় যা কিছুই ঘটে থাকুক না কেন, তার জন্য দেশের আইন, বিচার-ব্যবস্থা রয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়াতে একজন মহিলাকে টেনে এনে বিভিন্ন লেখালেখি হচ্ছে। যার নেতিবাচক প্রভাব সমাজের ওপর পড়ছে। ইন্ডাস্ট্রিতেও এর খারাপ প্রভাব পড়বে। আমি চাই সুষ্টু তদন্ত হোক। অকারণে যেন মেয়েটির কোনও ক্ষতি না হয়ে যায়। পরীমণি যেন সঠিক বিচার পায়।