কাবুলের হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বাইরে কমপক্ষে দুটি বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পেন্টাগন।
বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পেন্টাগনের মুখপাত্র জন অ্যাবি টুইটার বার্তায় জানান, কাবুল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের অ্যাবি গেইটের পাশে একটি আত্মঘাতী বোমা হামলার কথা জানান। কাবুলের বিভিন্ন স্পট থেকে যাত্রী নিয়ে এসে বাসগুলো এখানেই দাঁড়ায়।
এর একটু পরেই আফগানিস্তানের স্থানীয় সংবাদদাতাদের মাধ্যমে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, কাবুল বিমানবন্দরের খুব কাছে ব্যারন হোটেলের গেইটেও বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। হোটেলের গেইটে বেশকয়েজনকে অস্ত্র উঁচিয়ে গুলি করতে দেখা গেছে বলে একজন প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে।
পেন্টাগনের একজন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এ ঘটনায় ইসলামিক স্টেট খোসারানকে (আইসিস-কে) দায়ী করছে, যারা যুক্তরাষ্ট্র ও তালেবানের বিরোধিতা করছে।
তালেবানের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ ঘটনায় বহু তালেবান নিরাপত্তাকর্মী আহত হয়েছেন।
কাবুলে ইতালির একটি দাতব্য হাসপাতালের কর্মীরা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তাদের হাসপাতালে রাত ১০টা পর্যন্ত ৬০জন গুরুতর জখম নিয়ে এসেছেন।
কাবুলে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের একজন কর্মকর্তা জানান, বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় ৫ জন সেনাসদস্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।
আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহার করে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন যখন তার নিরাপত্তা পরিষদের সঙ্গে বৈঠক করছিলেন, তখনই এই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে বলে পেন্টাগন জানিয়েছে।
তাদের মুখপাত্র জন ক্যাবি বলেছেন, বোমা হামলার পরও তারা আফগানিস্তান থেকে মার্কিন নাগরিকদের সরিয়ে নিতে জোর তৎপরতা চালিয়ে যাবেন।
কাবুলের পতনের পর থেকে জীবন বাঁচাতে আফগানিস্তান ছেড়ে যাচ্ছেন বিদেশি ও আফগানরা। দেশত্যাগে তারা ব্যবহার করছেন হামিদ কারজাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। ১৫ আগস্ট তালেবানের হাতে ক্ষমতা আসার পর থেকে বিমানবন্দরের দিকে হাজারো মানুষের স্রোত। এরই মধ্যে ৮২ হাজারের বেশি মানুষকে বিমানে করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
বিবিসির খবরে বলা হয়, বৃহস্পতিবারের বিস্ফোরণটি বিমানবন্দরের অ্যাবি গেটে হয়েছে। সম্প্রতি সেখানে যুক্তরাজ্যের বাহিনী মোতায়েন করা হয়।
এর আগে পেন্টাগনের প্রেস সচিব জন ক্যাবি আফগানিস্তানের বিমানবন্দরে আত্মঘাতী হামলার বিষয়ে সতর্ক করেন। অন্যদিকে, বিমানবন্দরে যাওয়ার পথেও মানুষ হামলার শিকার হতে পারে বলে সতর্ক করেন কমনওয়েলথ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অফিস (এফসিডিও)।
জন ক্যাবি এক টুইটে বলেছেন, ‘কাবুল বিমানবন্দরের বাইরে বিস্ফোরণের বিষয়টি আমরা নিশ্চিত হয়েছি। এই ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি এখনও পরিষ্কার নয়।’
বৃহস্পতিবারই এর আগে কাবুল বিমানবন্দরে উড্ডয়নের পরপর ইতালির সামরিক বাহিনীর একটি ফ্লাইট লক্ষ্য করে গুলি চালানোর ঘটনা ঘটে।