ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় নৌ দুর্ঘটনার নৌকাডুবির ঘটনায় ৭ জনের নাম উল্লেখ করে বিজয়নগর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। শনিবার (২৮ আগস্ট) দুপুরে নিহতের পরিবারের সদস্য মো. সেলিম মিয়া বাদী হয়ে মামলাটি দায়ের করেন। এ ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শুক্রবার (২৭ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে চম্পক নগর বাজার থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরে ফেরার পথে শতাধিক যাত্রী নিয়ে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি বাল্কহেডের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে শতাধিক যাত্রীবাহী নিয়ে নৌকাটি ডুবে যায়। এতে ৫০ জনের মত যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও প্রাণ হারায় ২২ জন। আহত অবস্থায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন অন্তত ১৫ জন।
এ দুর্ঘটনায় বিজয়নগর উপজেলার চম্পক নগর ইউনিয়নের গেরাগাঁও গ্রামের মো. সেলিম মিয়ার পরিবারের চারজন নিহত হয়। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে দায়ী নৌযান চালকসহ ৭ জন মাঝি মাল্লার নাম উল্লেখ করে শনিবার দুপুরে মামলাটি দায়ের করেন। এ ঘটনায় পুলিশ ৫জনকে গ্রেপ্তার করে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন-নৌকারমাঝি সরাইল উপজেলার পানিশ্বর ইউনিয়নের শোলা বাড়ি গ্রামের আলী আফজলেরর ছেলে জমির মিয়া (৩৩), একই গ্রামের আব্দুল করিমের ছেলে মো: রাসেল (২২), মো: কাশেম মিয়ার ছেলে খোকন মিয়া (২২), আশরাফ আলীর ছেলে মো: সোলায়মান (৬৪), বিজয়নগর উপজেলার পত্তন ইউনিয়নের কালারটেক গ্রামের হাজী তালেব হোসেনের ছেলে মিস্টু মিয়া (৬৭)।
এছাড়া বাকিদুইজন সহ অজ্ঞাতনামা আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযানে নেমেছে পুলিশ। এছাড়া আটক করা হয়েছে দুর্ঘটনা কবলিত নৌযান।
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আনিসুর রহমান জানান, দুর্ঘটনায় ৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান চলছে। দুর্ঘটনাকবলিত নৌযানটি উদ্ধারে পুলিশের পক্ষ থেকে চেষ্টা চালানো হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ২১ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।