কাশিমপুরের মহিলা কারাগার থেকে বুধবার মুক্তি পেয়েছেন নায়িকা পরীমনি। মঙ্গলবার তার জামিন মঞ্জুর হয়। কিন্তু জামিনের কাগজ পৌঁছাতে দেরি করায় পরদিন মুক্তি দেওয়া হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বুধবার সকালে তাকে মুক্তির বিষয়টি জানানো হয়। তবে আরেকটি সূত্র জানিয়েছে, মঙ্গলবারই পরীমনি তার জামিনের কথা জানতে পারেন। এ খুশিতে মধ্যরাত পর্যন্ত অন্য নারী বন্দিদের সঙ্গে গল্প করেছেন পরীমনি।
কাশিমপুর মহিলা কারাগারে বিউটি পার্লার রয়েছে। সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের প্রশিক্ষণের জন্য এই পার্লার করা হয়েছে।
কারাগারের একটি সূত্র দাবি করেন, যেহেতু নারী বন্দিদের প্রশিক্ষণের জন্য কারাগারের ভেতরে বিউটি পার্লার রয়েছে, আসামিদের সেখানেও সাজার সুযোগ থাকে। সেখান থেকেও মেহেদি লাগাতে পারেন পরীমনি। এছাড়া কারাগারের ভেতর থেকেই মেহেদি সংগ্রহ করে হাতে লাগিয়েছেন বাইরে থেকে আনার কোনো সুযোগ নেই।
বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে বের হলে স্বজনরা তাকে বরণ করে নেন।
গত ৪ আগস্ট বিকালে পরীমনির বনানীর বাসায় অভিযান চালায় র্যাব। এ সময় তার বাসা থেকে বিপুল পরিমাণ বিদেশি বিভিন্ন ব্র্যান্ডের দামি মদ, মদের বোতলসহ অন্যান্য মাদকদ্রব্য জব্দ করা হয়। ওই দিন রাত সোয়া ৮টার দিকে বনানীর বাসা থেকে পরীমনিকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য র্যাব সদর দপ্তরে নিয়ে যাওয়া হয়।
পরে তার বিরুদ্ধে বনানী থানায় মাদক মামলা করা হয়। ওই মামলায় গত ৫ আগস্ট পরীমনিকে চার দিন ও ১০ আগস্ট দ্বিতীয় দফায় দুদিনের রিমান্ডে পাঠান আদালত।
পরে ১৩ আগস্ট পরীমনির জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ধীমান চন্দ্র মণ্ডল। আদালতের আদেশে ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে প্রিজনভ্যানে করে পরীমনিকে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। এর পর ওই কারাগার থেকে গত ১৯ আগস্ট তৃতীয় দফায় পরীমনিকে একদিনের রিমান্ডে ঢাকায় নেওয়া হয়। রিমান্ড শেষে ২১ আগস্ট পুনরায় পরীমনিকে কারাগারে পাঠানো হয়।