তরুণদের মডার্নার টিকা দেওয়া স্থগিত করেছে ইউরোপের দুই দেশ সুইডেন ও ডেনমার্ক। ভ্যাকসিনের সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার খবর আসার পর স্থানীয় সময় বুধবার সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে এ সিদ্ধান্ত নেয় দেশ দুটি। এক প্রতিবেদনে এ খবর জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
বিশ্বের অনেক দেশের কাছেই করোনার টিকা এখনো সোনার হরিণ। এক ডোজ টিকা পেতে বিশ্বের ধনী দেশের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও মিলছে না টিকা। অন্যদিকে উল্টোচিত্র দেখা গেল ইউরোপের এই দুই দেশে।
ইউরোপের একাধিক দেশে মডার্নার ভ্যাকসিন নেওয়ার পর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় হৃদপিণ্ডের পেশিতে প্রদাহের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত মিলেছে। এমন তথ্য পাওয়ার পরপরই ১৮ বছরের কম বয়সীদের মডার্নার টিকা আর না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ডেনিশ কর্তৃপক্ষ।
এক বিবৃতিতে তারা জানায়, চারটি নরডিক দেশ থেকে সংগৃহীত তথ্য অনুযায়ী, মডার্না টিকায় হৃদযন্ত্রের প্রদাহ বাড়ার ঝুঁকি রয়েছে। নরডিক দেশগুলো থেকে পাওয়া প্রাথমিক তথ্য ইউরোপীয় মেডিসিন এজেন্সির সংশ্লিষ্ট কমিটিতেও পাঠানো হয়েছে। সেখানেই পুরো বিষয়টি পর্যালোচনা করা হবে বলেও জানায় তারা।
এদিকে হৃদযন্ত্রের প্রদাহ বাড়ার ঝুঁকির কারণে ইউরোপের আরেক দেশ সুইডেনেও ৩০ বছর ও এর চেয়ে কম বয়সীদের মডার্নার টিকা দেয়া স্থগিত করা হয়েছে। বুধবার সুইডিশ জনস্বাস্থ্য সংস্থার এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। সুইডেনের প্রধান মহামারি বিশেষজ্ঞ অ্যান্ডার্স টেগনেল জানান, বর্তমান পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন তারা।
সুইডিশ কর্তৃপক্ষ আরও জানিয়েছে, তরুণদের জন্য মডার্নার পরিবর্তে ফাইজারের টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। দেশটিতে আগামী ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে।
গেল জুলাই মাসে ইউরোপের ওষুধ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ইউরোপিয়ান মেডিসিন এজেন্সি ১২ থেকে ১৭ বছর বয়সীদের জন্য মডার্নার টিকা প্রয়োগের অনুমতি দেয়, যা ছিল ১৮ বছরের কম বয়সীদের জন্য টিকার প্রথম অনুমোদন।
বিশ্বে এখন পর্যন্ত করোনায় মোট মারা গেছেন ৪৮ লাখ ৩৯ হাজার ৩৭৬ জন এবং আক্রান্ত হয়েছেন ২৩ কোটি ৭০ লাখ ৪৭ হাজার ৬৮৫ জন। এদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ২১ কোটি ৪১ লাখ ৮৬ হাজার ৯৭৯ জন।