অনলাইন ক্যাসিনোতে জীবনের হিসাব মেলাতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিলেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে মাস্টার্স চূড়ান্ত বর্ষের ছাত্র তানভীর আলম তুষার।
‘আই কুইট ফরএভার…’ ফেসবুকে এমন স্ট্যাটাস দিয়ে বৃহস্পতিবার (০৭ অক্টোবর) ভোরে আত্মহত্যা করেছেন তিনি। রংপুর নগরীর সাহেবগঞ্জ এলাকার বাসা থেকে বৃহস্পতিবার দুপুরে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগে পাঠানো হয়েছে।
অটোরিকশা গ্যারেজ মালিক মহসীন আলী জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা পর্যন্ত ঘুম থেকে না ওঠায় বাড়ির লোকজন ঘরের বাইরে থেকে ডাকাডাকি করে। কিন্তু কোনো সাড়া না পেয়ে জানালার ফাঁক দিয়ে তাকালে তাকে ঝুলতে দেখা যায়। পরে ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলে থাকা তার নিথর দেহ নামিয়ে আনলেও তা ছিল প্রাণহীন। ঘরের বিমে বৈদ্যুতিক তার গলায় পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করে তুষার।
পরিবারের সদস্যরা জানান, পরিবারের অজান্তেই তুষার অনলাইনে জুয়া খেলায় আসক্ত হয়ে পড়ে। তাকে নানাভাবে শাসন করলেও ল্যাপটপ, মোবাইলফোন বিক্রি করেও সে খেলা অব্যাহত রাখে। এক পর্যায়ে ধারদেনা করেও জুয়া খেলায় বাড়ি থেকে বের করে দেয়া হয় তাকে। দীর্ঘদিন তার খালার বাড়িতে থাকার পর সম্প্রতি তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনে পরিবার। কিন্তু আজ ভোরে এই ঘটনা ঘটায় সে।
তানভীরের বাবা মহসিন আলী জানান, করোনার সময় বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় অনলাইন জুয়ার প্রতি আসক্ত হয়ে পড়ে তার ছেলে। গত দেড় বছরে টাকা চাওয়া নিয়ে প্রায়ই বাড়িতে ঝগড়াঝাটি করতো। তবে প্রথমে জানা যায়নি যে তানভীর জুয়ার প্রতি আসক্ত ছিল। জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে অনেক টাকা ঋণ করেছিলো তানভীর। এবিষয়ে জানার পর পরিবার থেকে জুয়ার টাকার পরিশোধ করতে সাহায্য না করায় নতুন ল্যাপটপ বিক্রি করে দিয়েছিলো। জুয়ার নেশা থেকে দূরে রাখতে পরিবারের পক্ষ থেকে অনেক চেষ্টা করা হলেও সম্ভব হয়নি। বুধবার রাতে খাবার খাওয়ার পর টাকা পয়সা চাওয়া নিয়ে আমার সঙ্গে তানভীরের কথা কাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে সে নিজের কক্ষে চলে যায়।
প্রতিবেশীরা জানিয়েছে, তুষার এভাবে জুয়ায় আসক্ত হবে সেই ধারণা ছিল না। তবে অনেকেই এ ধরনের জুয়ার সঙ্গে জড়িয়ে ঋণগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানায় তার বন্ধুরা। বুধবার রাতে স্ট্যাটাসটা অনেকেই দেখলেও দুষ্টামি ভেবেছে। আবার কেউ কেউ মোবাইলফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তার সাড়া পায়নি।
তুষারের আত্মহত্যার খবর ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে তার বন্ধু ও পরিচিতরা এমন মৃত্যুর জন্য শোক প্রকাশ করে। অনেকে তার বাড়িতে যায় শেষবারের মতো তাকে দেখতে।
মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার (অপরাধ) আবু মারুফ হোসেন জানান, বিষয়টি প্রাথমিকভাবে আত্মহত্যা মনে হলেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, অনলাইনে বিট কয়েন দিয়ে সে জুয়া খেলত। অনলাইনে জুয়া খেলে আমাদের তরুণ সমাজ বিপথগামী হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, অনলাইন অপরাধ অর্থাৎ সাইবার ক্রাইম প্রতিরোধে গোয়েন্দা বিভাগে একটি টিম আছে, তারা এসব নিয়ে কাজ করছে। কিন্তু ইন্টারনেটের বিস্তৃত এই প্লাটফরম চাইলেই আমরা মনিটরিং-এ আনতে পারি না। তবে পুলিশ চেষ্টা করছে ইন্টারনেট পেট্রোলিং করছে। নজরদারি করার চেষ্টা করছে।