অভাব-অনটনের কারণেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বন্ধু মো. ফরিদ। র্যাব-৪ এর কমান্ডিং অফিসার মোজাম্মেল হক বৃহস্পতিবার (৭ অক্টোবর) বিকেল ৫টায় র্যাবের সিপিসি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে ব্রিফিং করেন।
এতে র্যাব কমান্ডার জানায়, মাসুম শেখের (২৭) গ্রামের বাড়ি রাজবাড়ী জেলায়। মাসুদ শেখের বাবা জীবিকার প্রয়োজনে দীর্ঘ ২৬ বছর ধরে সাভারের সবুজবাগ এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। মাসুদ পেশায় অটোরিকশা চালক। তিনি সাভারসহ সিংগাইর ও ধামরাই এলাকায় অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত।
তাই তার অটোরিকশা ছিনতাই করতে পরিকল্পনা করে প্রথমে মাসুদের সাথে বন্ধুত করেন ফরিদ। চলতি মাসের শনিবার (২ অক্টোবর) আটোরিকশা নিয়ে বের হয় মাসুদ। রাত ১১টার পরও বাসা না ফেরায় অনেক খোঁজাখুঁজি করে স্বজনেরা। সারা রাতে খোঁজাখুঁজির পর মাসুদ এবং তার সাথে থাকা অটোরিকশা না পাওয়া গেলে তার ভাই মো. মজনু মিয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিখোঁজের খবর প্রচার করেন এবং সাভার মডেল থানায় নিখোঁজের একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
নিখোঁজের চারদিন পর মাসুদের ভাই একজন সাংবাদিকের মাধ্যমে জানতে পারেন একটি অজ্ঞাত লাশ মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইরের দাশেরহাটি গ্রামে পাওয়া গেছে। তার ভাই ও তার পরিবার ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি মাসুদ শেখের বলে শনাক্ত করেন। পরবর্তীতে তার ভাই মজনু মিয়া বাদী হয়ে মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের অভিযুক্ত করে মামলা দায়ের করেন। এতে র্যাব-৪ গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি পূর্বক ছায়া তদন্ত শুরু করে।
র্যাব আরও জানায়, হত্যার আগে ফরিদ পরিকল্পিতভাবে ছুরি কিনে রাখে। এরপর মাসুদের অটোরিকশা ভাড়া করে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী তাকে দাশেরহাটি আলমমারা ব্রিজ সংলগ্ন এলাকার নির্জন স্থানে কৌশলে নিয়ে সুযোগ বুঝে গলায় গামছা পেঁচিয়ে ছুরি দিয়ে গলায় আঘাত করে হত্যা করে। মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর দুই হাতের আঙুল কেটে বিভিন্ন জায়গায় ফেলে দেয়।
মো. মোজাম্মেল হক আরও জানান, ৬ অক্টোবর রাতে সাভার থেকে হত্যাকারী ফরিদকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। এরপর তার দেওয়া তথ্যানুযায়ী সিংগাইর উপজেলার আলমাস হোসেনের অটোপার্সের দোকান থেকে অটোরিকশা এবং উপজেলার গোবিন্দল গ্রামের তালপটি ব্রিজের নিচ থেকে থেকে হত্যার কাজে ব্যবহৃত চাকু ও গামছা এবং ফরিদের বাড়ি থেকে ভিকটিমের মোবাইল ফোনটি উদ্ধার করে র্যাব।
আসামি ফরিদকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তার বাড়ি মানিকগঞ্জ জেলার সিংগাইর থানা এলাকায়। তার নিজের কোনো অটোরিকশা না থাকায় অন্যের অটোরিকশা ভাড়ায় চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করত। তিনি নিজে একটি অটোরিকশার মালিক হওয়ার উদ্দেশে মাসুদের অটোরিকশাটি ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন।
এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন বলে সংবাদ সম্মেলন জানিয়েছেন র্যাবের অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক। মাসুদ শেখের হত্যাকারীর ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন নিহতের ভাই মনজু শেখ।