‘দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে কাজ করি একসাথে’ সেøাগানে আজ পালিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক দুর্যোগ প্রশমন দিবস ২০২১। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও মুজিব শতবর্ষে দিবসটি পালন করতে নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে ঘূর্ণিঝড় প্রস্তুতি কর্মসূচির ৫০ বছর পদার্পণ উদযাপনের আয়োজন করা হয়েছে।
গতকাল সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে দিবসের নানাদিক নিয়ে কথা বলেছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান। তিনি বলেন, দেশে এখন সবচেয়ে বড় দুর্যোগ নদীভাঙন। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আমরা নদীভাঙনের শিকার পরিবারের তালিকা করেছি। চলতি বছর ৯ হাজার ৪৪৫টি পরিবার তাদের ঘরবাড়ি হারিয়েছে। নদীভাঙনের শিকার এসব পরিবারকে দুই শতাংশ জায়গাসহ পাকাঘর করে দেবে সরকার। ইতোমধ্যে এসব গৃহহীনদের তালিকা করা হয়েছে।
নদীভাঙনে রোধে টেকসই ব্যবস্থাপনার জন্য ডেল্টা প্ল্যান প্রণয়ন করা হয়েছে জানিয়ে ডা. এনামুর বলেন, সেই ডেল্টা প্ল্যানের মধ্যে একটি হটস্পট হচ্ছে নদী ব্যবস্থাপনা। সে ব্যবস্থাপনার
আওতায় রয়েছে নদীতে টেকসই বাঁধ দেওয়া ও নদী খনন করে নাব্য সৃষ্টি করা। ২০৩১ সালের মধ্যে এ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ৩৭ বিলিয়ন ডলার বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে। এ ছাড়া জাপান সরকারের উন্নয়ন সংস্থা-জাইকার প্রতিনিধিরা কুড়িগ্রাম, সুনামগঞ্জ ও কক্সবাজার জেলার নদীগুলো শাসন করে বন্যা ব্যবস্থাপনার কাজ শুরু করেছে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকারের বিল্ডিং কোড করেছে। এ কোড মেনে আগামীতে বাড়ি করলে তা ভূমিকম্প সহনীয় হবে। ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্প সহনীয় মাত্রায় তৈরি করা হয়েছে। পুরনো ভবনগুলো ভূমিকম্প সহনীয় করতে জাইকার সঙ্গে একটি সমঝোতায় হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
এদিকে ২০১১ সাল থেকে এ পর্যন্ত গত ১১ বছরে বজ্রপাতে ২ হাজার ৮০০ মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। এ জন্য বজ্রপাতে মৃত্যু ঠেকাতে ৪৭৬ কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে বলে জানান দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মো. এনামুর রহমান। এ প্রকল্পের আওতায় বজ্রপাতের ৪০ মিনিট আগে সতর্কবার্তা দেওয়ার যন্ত্র কিনবে সরকার। একই সঙ্গে বজ্রপাত থেকে বাঁচতে আশ্রয়কেন্দ্র করা হবে।