মাদারীপুরের শিবচরে নেশার টাকার জন্য ভ্যানচালক পারভেজ ফকিরকে (২৪) হত্যা করেছে তারই দুই বন্ধু। তাদের গ্রেপ্তারের পর হত্যাকাণ্ডের আসল রহস্য উন্মোচিত হয়েছে।
পুলিশ ও নিহতের পরিবার সূত্র জানায়, চলতি বছরের ১৩ অক্টোবর সকালে শিবচরের রহমতউল্লাহ হাওলাদারকান্দির শশুরবাড়ি থেকে ভ্যান নিয়ে বের হন একই উপজেলার পারভেজ। তিনি ফকির রনাই মুন্সিকান্দি গ্রামের বাবুল ফকিরের ছেলে।
রাতে পারভেজ বাড়িতে না আসায় পরিবারের সদস্যরা অনেক খোঁজাখুঁজি করেও কোনও লাভ হয়নি। পরদিন ফরিদপুরের গজারিয়া এলাকার আড়িয়াল খাঁ নদের তীরবর্ত্তী ধানখেত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ১৪ দিন টানা তদন্তে তথ্য প্রযুক্তিসহ বিভিন্নভাবে নিশ্চিত হয় এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত তার বন্ধুরাই।
২৮ অক্টোবর ভাঙ্গা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে শিবচরের সন্ন্যাসীরচর থেকে গ্রেপ্তার করা হয় হৃদয় মাদবর ও আজিজুল মুন্সী নামের দুই যুবককে। গ্রেপ্তার ২ জনই হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন।
ভাঙ্গা থানার এসআই ও তদন্তকারি কর্মকর্তা আবুল কালাম বলেন, হৃদয়, আজিজুল মাদকসেবী ও ব্যবসায়ী। ১৩ অক্টোবর গান শোনার কথা বলে দুজন পারভেজকে ভাঙ্গায় নিয়ে যান। সেখানে নিয়ে কোল্ড ড্রিংকসের সঙ্গে নেশাদ্রব্য মিশেয়ে খাওয়ান। পরে তাকে ভাঙ্গার গজারিয়া এলাকার আড়িয়াল খাঁ নদের তীরবর্ত্তী ধানখেতে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। পরে হত্যাকারীরা তার ভ্যানটি স্থানীয় একটি বাজারে ১০ হাজার ১শ টাকায় বিক্রি করেন।