সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে ভিডিওটি। হয়েছে হাজার হাজার শেয়ার। যাতে দেখা যায় কালো একটি গাড়ি বেপরোয়া গতিতে ছুটছে। এরপর প্রাইভেট কারটি রিকশায় গিয়ে ধাক্কা দেয়। এতে ছিটকে যান রিকশায় থাকা বাবা, ছোট্ট শিশু ও রিকশাচালক। দুমড়ে মুচড়ে যায় রিকশাটি। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার রাজধানীর বেইলী রোডে। এতে পা ভাঙে ৬ মাস বয়সী শিশুটির, আর তার বাবা ফখরুল হাসানের ভাঙে হাত।
আহত হন রিকশাচালকও।
রাজধানীর বেইলী রোডে চলন্ত রিকশাকে গুঁড়িয়ে দেয়া বেপরোয়া গতির প্রাইভেট কারের চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চালক অপ্রাপ্তবয়স্ক এক স্কুলশিক্ষার্থী। উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। নাম তাসকিন আহমেদ শাফী। শাফী মগবাজার এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকেন।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঘটনাটি ছড়িয়ে পড়ার পর তৎপর হয় পুলিশ। যদিও প্রত্যক্ষদর্শীরা একটি গণমাধ্যমে অভিযোগ করেন সে সময় পুলিশ সদস্য থাকা সত্ত্বেও কেউ পথরোধ করেননি। গাড়ি নম্বর ঢাকা মেট্রো-গ-৩৫-২২৬৩। শনিবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে হাতিরঝিল এলাকা থেকে প্রাইভেটকারটি উদ্ধার করে পুলিশ। গাড়িটি হাতিরঝিল থানা পুলিশ হেফাজতে নেয়া হয়েছে বলে জানায় তেজগাঁও বিভাগ।
গাড়ি জব্দের পরদিন রোববার চালক তাসকিনকেও গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রোববার রাত সাড়ে তিনটার দিকে তাসকিনকে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার হাট বোয়ালিয়া নতুনবাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত কমিশনার হাফিজ আল ফারুক জানান। গ্রেপ্তারের পর তাসকিনকে ঢাকায় আনা হয়।
উইলিস লিটল ফ্ল্যাওয়ার স্কুলে যোগাযোগ করা হলে জানানো হয়, তাসকিন স্কুলে নিয়মিত। তবে তার নামে বেশ কয়েকবার অভিযোগ জানানো হয়েছিল। এ ছাড়াও অভিভাবককে ডেকেও পাঠানো হয়েছে দু’একবার।
তাসকিনের ফেসবুকে আইডি ঘেঁটে দেখা যায় বিভিন্ন ভিডিও কন্টেন্ট বানায় সে। টিকটক করাও তার নেশা।
এ ঘটনায় রোববার রাতে তেজগাঁও বিভাগ উপ-পুলিশ কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার সংবাদ সম্মেলন করেন।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, যে গাড়ি নিয়ে তাসকিন দুর্ঘটনা ঘটায় এর মালিক ওয়ারী এলাকার কামাল মিয়া। তাসকিনের বাবা আইনজীবী তারজেল হোসেন।
ঘটনার পরের দিন তাসকিনকে তার মা বাসযোগে মেহেরপুরের গাংনী থানা এলাকায় অবস্থিত দাদার বাড়িতে নিয়ে যান। পরে রাতেই চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা থানার হাটবোয়ালিয়া (নতুন বাজার) এলাকায় অবস্থিত নানা বাড়িতে নিয়ে যান। সেখান থেকে পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে।