সামরিক অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী আব্দাল্লা হামদককে পুনর্বহাল করা হবে। ২৫শে অক্টোবর তাকে ক্ষমতাচ্যুত করে সেনাবাহিনী গৃহবন্দি করে। জারি করে জরুরি অবস্থা। বিলুপ্ত করে বেসামরিক প্রশাসন। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদে ফুঁসে ওঠে দেশ। তাতে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৪০ জন। কিন্তু আন্তর্জাতিক চাপ তীব্র থেকে তীব্র হয়েছে দেশটির সেনাবাহিনীর ওপর। উদ্ভূত সমস্যা নিয়ে সমঝোতা শুরু হয়।
এরপর সেনাবাহিনী, বেসামরিক নেতারা এবং সাবেক বিদ্রোহী গ্রুপগুলোর মধ্যে নতুন চুক্তি হয়েছে। এই চুক্তির ফলে সব রাজনৈতিক বন্দিকে মুক্তি দেয়ার কথা জানানো হয়েছে। সুদানের উম্মা পার্টির প্রধান ফাদলাল্লাহ বুরমা নাসির নিশ্চিত করেছেন যে, শনিবার রাতের শেষের দিকে ওই চুক্তি হয়েছে। এতে রোববার সব পক্ষের স্বাক্ষর করার কথা রয়েছে। সমঝোতা আলোচনায় আব্দাল্লা হামদক সম্মতি দিয়েছেন। কারণ, তিনি দেশে আরো রক্তপাত এড়াতে চান। তার ঘনিষ্ঠ সূত্র এ কথা জানিয়েছেন। হামদকের অফিস থেকে বলা হয়েছে, তার চলাফেরার ওপর থেকে বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। তার বাসভবনের বাইরে মোতায়েন করা নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে। সমঝোতাকারী গ্রুপের মধ্যে আছেন শিক্ষাবিদ, সাংবাদিক, রাজনীতিক। তারাই চুক্তির শর্ত প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন। তারা বলেছেন, দেশকে গণতন্ত্রে প্রবর্তনে সহায়ক হবে এই চুক্তি।
২০১৯ সালের আগস্ট থেকে ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তিতে সুদানের সেনাবাহিনী এবং ফোর্সেস ফর ফ্রিডম অ্যান্ড চেঞ্জের (এফএফসি) মধ্যে একটি দুর্বল জোট গঠন হয়েছিল। সুদানের দীর্ঘদিনের শাসক প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশিরকে ক্ষমতা থেকে উৎখাতের পর এই জোট গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু গত মাসে সেনাপ্রধান জেনারেল আব্দেল ফাত্তাহ আল বুরহান ওই জোট সরকারকে বিলুপ্ত করে ক্ষমতাচ্যুত করেন প্রধানমন্ত্রী হামদককে। গ্রেপ্তার করেন ওই সরকারের নেতাদের।