দুর্ঘটনার পরই কলকাতা ফেরার সিদ্ধান্ত বদল করেছেন সায়ন্তিকা। বাঁকুড়ায় ফিরে গিয়েছেন তিনি। তার ডান কাঁধের পেছন দিকে গুরুতর ব্যথা পেয়েছেন।
দুর্ঘটনার বিবরণ দিতে গিয়ে সায়ন্তিকা আনন্দবাজার পত্রিকাকে বলেন, ‘আমি কোথাও গেলে সাধারণত তাড়াহুড়ো করি না। সময় হাতে নিয়েই বের হই। এ দিনও সেভাবেই এক্সপ্রেসওয়ে ধরে কলকাতার দিকে এগোচ্ছিলাম। আচমকাই ওই লরিটি এসে আমার গাড়িতে ধাক্কা দেয়। ধাক্কা দেওয়ার পর লরিটি প্রচণ্ড বেগে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। আমার পাইলট গাড়ি লরিটিকে ধাওয়া করতে শুরু করে।’
সন্দেহ প্রকাশ করে এই অভিনেত্রী আরও বললেন, ‘সাধারণত পুলিশ তাড়া করছে দেখলে লরিচালকরা লরি থামিয়ে দেয় অথবা গতি কমিয়ে দেয়। এ ক্ষেত্রে লরিটি গতি আরও বাড়িয়ে দেয়। পরে নাকা তৈরি করে লরিটিকে ধরা হয়। আমার মনে হয় চালকের অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল। আমি ওই লরিচালকের বিরুদ্ধে কড়া ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনকে অনুরোধ করেছি।’
সায়ন্তিকাকে চিকিৎসক দেখেছেন। হালকা ঘুমের ওষুধ দিয়েছে তাকে। কয়েক দিন বিশ্রামের মধ্যেই থাকতে হবে তাকে। দুর্ঘটনার কারণে আপাতত খানিক ভয় পেয়ে রয়েছেন। তবে কাঁধের ব্যথা ছাড়া বিশেষ কোনো অসুবিধা নেই তার। এই অভিনেত্রী ভিডিও কলে কথা বলছেন তার মা-বাবার সঙ্গে। শুক্রবার (১০ ডিসেম্বর) কলকাতার উদ্দেশে রওনা হবেন এই তৃণমূল নেত্রী।
রাজনৈতিক প্রয়োজনে প্রায়ই তাকে বাঁকুড়ায় জনসংযোগ করতে হয় তাকে। সেখানে তিনি সাধারাণ মানুষের অভাব-অভিযোগের কথা শোনেন। বৃহস্পতিবার (৯ ডিসেম্বর) কলকাতা ফেরার কথা ছিল তার। সেই অনুযায়ী এদিন ভোরে বাঁকুড়া থেকে কলকাতা ফিরছিলেন তৃণমূল নেত্রী সায়ন্তিকা ব্যানার্জি। সকাল ৬টা ১৫ মিনিটের দিকে পশ্চিম বর্ধমানের রাজবাঁধ এলাকায় আচমকা পেছন দিক থেকে তার গাড়িতে ধাক্কা দেয় ১২ চাকার একটি লরি।
টালিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী সায়ন্তিকা ব্যানার্জি। ২০০৮ সালে নৃত্যবিষয়ক প্রতিযোগিতার মাধ্যমে ক্যারিয়ার শুরু করেছিলেন। এরপর ২০০৯ সালে নাম লেখান সিনেমায়। এ পর্যন্ত বেশকিছু সফল সিনেমায় দেখা গেছে তাকে। জুটি বেঁধেছেন টালিউডের প্রথম সারির নায়কদের সঙ্গে।
অভিনয়ের পাশাপাশি সায়ন্তিকা রাজনীতিও করছেন। চলতি বছর অনুষ্ঠিত হওয়া পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হয়েছিলেন। তৃণমূল কংগ্রেসের হয়ে লড়াই করে শেষ পর্যন্ত হেরে যান এ নায়িকা।