পড়াশোনার প্রবল চাপসহ অনেক ক্ষেত্রেই শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে দেখা যায়। তাই আত্মহত্যা ঠেকাতে হোস্টেল থেকে সিলিং ফ্যান খুলে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
বুধবার (১৬ই ডিসেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে বেঙ্গালুরু ইন্ডিয়ান ইন্সস্টিটিউট অব সায়েন্সেন্স (আইআইএসসি) কর্তৃপক্ষ। তবে অনেক সময় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সম্পর্ককে সহজ ও মজবুত করার পরামর্শও দিয়ে থাকেন বিশেষজ্ঞরা। খবর: আনন্দবাজার পত্রিকার।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থীর বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোস্টেলের সকল কক্ষের সিলিং ফ্যানগুলো খুলে নেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য ‘বিপজ্জনক’ সরু বারান্দা ও ছাদে যাওয়ার ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ক্যাম্পাসে আত্মহত্যা রুখতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে, ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার প্রবণতায় রাশ টানতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জানা গেছে, চলতি আইআইএসসি’র ক্যাম্পাসে চার শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেন। গত বছর এই সংখ্যা ছিল দুইজন। এ কারণে কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের আবাসিক কক্ষ থেকে সিলিং ফ্যান খোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই ফ্যান সরানোর কাজ শেষ হবে।
তবে শিক্ষার্থীরা বলছেন, সিলিং ফ্যান খুলে অন্য ফ্যান লাগালেই সমস্যার সমাধান হবে না। ৯০ শতাংশ শিক্ষার্থী মত দিয়েছেন, এমন কাজের কোনো প্রয়োজনই ছিল না।
এদিকে আইআইএসসি’র শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই রয়েছে ‘শিক্ষার্থী কল্যাণ সেন্টার’। তবে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ কেন্দ্রটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে ব্যর্থ হচ্ছে।
বেঙ্গালুরুর ইন্ডিয়ান ইন্সস্টিটিউট অব সায়েন্সেস’র বিশ্বজুড়ে সুনাম। বিভিন্ন সংস্থার করা র্যাঙ্কিংয়ে ভারতে প্রতিষ্ঠানটি প্রথম সারিতেই। এমন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রীরাদের আত্মহত্যা ঠেকাতে হোস্টেলের কক্ষ থেকে সিলিং ফ্যান খুলে নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু এমন কাজের সমালোচনা ঝড় উঠেছে।
এছাড়া খ্যাতনামা এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা রুখতে তাদের মানসিক স্বাস্থ্য সেবার পথে না গিয়ে সিলিং ফ্যান কেন খুলতে হচ্ছে, উঠছে সেই প্রশ্নও।