ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীদের অভিযোগ, একটি নিয়োগ টেন্ডারের অর্থের ভাগ পেতে ছাত্রলীগ প্রশাসনের পক্ষে অবস্থান নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালায়। অন্যদিকে ছাত্রলীগের অভিযোগ, চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা বিনা উসকানিতে তাদের ওপর হামলা চালায়।
সোমবার (১০ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় হাসপাতালের রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। দৈনিক প্রথম আলো অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে প্রথম আলোর ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ১০ জানুয়ারি কলেজের আউটসোর্সিংয়ের জনবল নিয়োগের দরপত্র জমা দেওয়ার তারিখ। ওই দিন সকাল ১০টায় অধ্যক্ষ টিটো মিঞার কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দেয় চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতি। সকালে কর্মচারীরা কলেজে ঢুকতে গেলে ছাত্রলীগ ও পুলিশের বাধার মুখে পড়েন। এ সময় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে কর্মচারীদের ধাক্কাধাক্কি হয়। পর কর্মচারী সমিতির পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল অধ্যক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে জনবল নিয়োগের বিষয়ে সমঝোতায় আসে। পরে তারা অধ্যক্ষের কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, বেলা ১১টার দিকে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা স্লোগান দিতে দিতে কর্মচারীদের ধাওয়া দিয়ে হাসপাতালে প্রবেশ করে। এ সময় ১০৮ ও ১০৯ নম্বর ওয়ার্ডে ঢুকে এক কর্মচারীকে মারধর করে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এক পর্যায়ে ওয়ার্ডের ফটক বন্ধ করে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীদের অবরুদ্ধ করে রাখে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এ সময় ওই ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়।
পরে কলেজের অধ্যক্ষ টিটো মিঞা ও হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. নাজমুল হক ঘটনাস্থলে পুলিশ নিয়ে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশ না করার শর্তে চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির এক নেতা বলেন, “নিয়োগ থেকে ভাগ পেতে কলেজ শাখা ছাত্রলীগের শীর্ষ দুই নেতা কলেজ প্রশাসনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। টাকার জন্য তারা আমাদের ওপর হামলা করতেও দ্বিধা করেনি। কর্মচারীরা তাদের ওপর কোনো হামলা করেননি।”
হামলার বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি শেখ মো. আল আমিন বলেন, “চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির এক শীর্ষ নেতা বিএনপির লোক। আমরা মেডিকেলের বঙ্গবন্ধু কর্নারে বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস উপলক্ষে ফুল দিতে যাই। তখন কর্মচারীদেরও একটি কর্মসূচি ছিল। কলেজে ঢোকার সময় কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জাকিউল ইসলামসহ কয়েকজনের গায়ে আঘাত করে তারা।”
এ বিষয়ে হাসপাতালের উপপরিচালক আশরাফুল আলম বলেন, “ভুল–বোঝাবুঝির পরিপ্রেক্ষিতে ঘটনাটি ঘটেছে। এই পরিস্থিতির জন্য যারা দায়ী, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক।”