কাস্টমারের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করতে হবে। তাই সিঙ্গাপুরের এক ম্যাসাজ পার্লারের অপারেটর নিজে ও আরও কয়েকজন যুবতী টপলেস বা নগ্ন হয়ে কাস্টমারদের যৌনতায় আসক্ত করেন। তাদেরকে যৌনতায় লিপ্ত করে হাতিয়ে নেন মোটা অংকের অর্থ। কিন্তু ওই অপারেটর ফেঁসে গেছেন। তার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছেন দু’জন কাস্টমার। তাদের অভিযোগের ভিত্তিতে ওই ম্যাসাজ পার্লারের অপারেটরকে ৫ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার জরিমানা করা হয়েছে। কারণ, তার লাইসেন্সই নেই। এ খবর দিয়েছে মালয়েশিয়ার একটি অনলাইন সংবাদ মাধ্যম।
এতে বলা হয়, সিঙ্গাপুরের ব্লক ১৮৬ রেঙ্গুন রোডের সিটিগেট রেসিডেন্সে ওয়েস্ট ওয়েলনেসে ম্যাসাজ পার্লার চালান মাইকা লিন ই হুই।
দেখা গেছে তিনি বৈধ কোনো লাইসেন্স ব্যবহার করে এই ব্যবসা পরিচালনা করছেন না। তাই তাকে জরিমানা করা হয়েছে সোমবার। রিপোর্টে বলা হয়েছে, গত বছর ১০ই ফেব্রুয়ারি লিন ই হুইয়ের পার্লারে মধ্যরাতে উপস্থিত হন ১৯ ও ২১ বছর বয়সী দু’জন কাস্টমার। তারা দু’জনেই ৫০ সিঙ্গাপুরি ডলারের বিনিময়ে এক ঘন্টার জন্য শরীর ম্যাসাজ করাতে রাজি হন। প্রশাসনিক চার্জ ১০ ডলারসহ দু’জনের খরচ মিলিয়ে ২১ বছর বয়সী যুবক মোট পরিশোধ করেন ১১০ ডলার।
এই পাওনা পরিশোধ করার পর আলাদাভাবে তাদেরকে কিউবিকলে নিয়ে যাওয়া হয়। এই কিউবিকল কাঠের পার্টিশন দিয়ে আলাদা করা। এরপর তাদেরকে পুরো নগ্ন হতে বলা হয়। এ অবস্থায় তারা দু’জনেই পরনে শুধু শর্টস এবং আন্ডারওয়্যার রাখেন।
প্রথমে ১৯ বছর বয়সী তরুণের কিউবিকলে প্রবেশ করেন লিন ই হুই। শুরু করেন ওই তরুণের স্পর্শকাতর অঙ্গে ম্যাসাজ। আপত্তিকর আচরণ করেন তিনি। কিন্তু ওই তরুণ এতে আপত্তি করেন।
এরপর তিনি ৪৪ বছর বয়সী আরেকজন ম্যাসাজকারীকে নিয়ে প্রবেশ করেন।
এ সময় সেখানে ছিলেন দু’জন টপলেস বা নগ্নবক্ষের নারী। অভিযুক্ত লিন ওই তরুণের হাত নিয়ে তার শরীরের ওপরের অংশে মর্দন করান। অন্যরা তার স্পর্শকাতর অঙ্গে ম্যাসাজ করতে থাকে আর বলতে থাকে ‘টাকা টাকা’। প্রথম দিকে ওই তরুণ তাদের এই আবেদনকে প্রত্যাখ্যান করেন। কিন্তু আস্তে আস্তে তিনি তাদেরকে এই ‘এক্সট্রা সার্ভিসের’ জন্য অর্থ দিতে রাজি হন।
প্রসিকিউশন থেকে বলা হয়েছে, এই ‘সার্ভিস’ দেয়ার পর ওই তরুণের ট্রাউজার থেকে তার ওয়ালেট নিয়ে নেন লিন। তার কাছে দাবি করেন ১০০ ডলার। দাবি অনুযায়ী ওই অর্থ পরিশোধ করেন তরুণ।
অন্যদিকে আরেকজন নারী ম্যাসাজকারী ২১ বছর বয়সী যুবকের শরীর ম্যাসাজ করতে থাকেন। এ সময়ে তার কিউবিকলে টপলেস হয়ে হাজির হন লিন এবং ৪৪ বছর বয়সী আরেক ম্যাসাজকারী। তারা ম্যাসাজ করার চেষ্টা করলে তিনি এতে বাধা দেন। তিনি বলেন, শুধুই একটি সাধারণ ম্যাসাজ করাতে এসেছেন। তার কথায় লিন ও ওই ম্যাসাজকারী থেমে যায় এবং তারা চলে যায়। এরপর লিন ওই কিউবিকলে আবার প্রবেশ করেন এবং বলেন, তারা কোনো সাধারণ ম্যাসাজ করেন না। বিশেষ করে চাইনিজ নববর্ষের সময়ে।
দু’জন ম্যাসাজকারী নগ্ন ছিলেন। এ জন্য বাড়তি অর্থ পরিশোধ করতে হবে। বাধ্য হয়ে এক্সট্রা সার্ভিসের জন্য ১০০ ডলার পরিশোধ করেন ওই যুবক।
এ সময় তার শর্টস টেনে খোলার চেষ্টা করেন ওই নারীরা। কিন্তু তাতে বাধা দেন ওই যুবক। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি পরাজিত হন। এরপর ওই তরুণ ও যুবক পরস্পরের মধ্যে আলোচনা করেন এবং পাওনা অর্থ ফেরত চান। তা দিতে অস্বীকৃতি জানান লিন। ফলে ১৯ বছর বয়সী তরুণ পুলিশে ফোন করেন। বিষয়টি ওঠে আদালতে। দেখা যায়, লাইসেন্স ছাড়া এই ম্যাসাজ সার্ভিস খুলে বসেছেন লিন।