বিশ্বকাপ ফুটবলে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এখনও দূরের স্বপ্ন। তবে, মাঠে না থাকলেও ভিন্নভাবে থাকবে বাংলাদেশের নাম। মেড ইন বাংলাদেশ লেখা ফিফার টি-শার্ট পরে অফিসিয়াল কর্মীরা ঘুরবেন সব ভেন্যূতে। পরবেন ফুটবল অনুরাগীরাও। ফিফার ৬ লাখ অফিসিয়াল টি-শার্ট তৈরির অর্ডার পেয়েছে চট্টগ্রামের একটি তৈরি পোশাক কারখানা। রাতদিন ব্যস্ততায় তা এখন তৈরি হচ্ছে। এরইমধ্যে চলে গেছে একটি চালান।
ফিফা বিশ্বকাপের এবারের আসর কাতারে। যা মাঠে গড়াবে আগামী ২১ নভেম্বর। ফুটবলের সবচেয়ে বড় এই আয়োজনকে ঘিরে বিভিন্ন দেশে তৈরি হচ্ছে নানা উপকরণ। যার অংশীদার বাংলাদেশও।
চটগ্রাম নগরের ফকিরহাট গোসাইলডাঙ্গায় সনেট টেক্সটাইলে ফিফার জন্য বানানো হচ্ছে বিশ্বকাপের টি-শার্ট। গেল বছরের জুলাইয়ে ৬ লাখ পিস তৈরির এ ক্রয়আদেশ দেয় রাশিয়ার ক্রেতা প্রতিষ্ঠান স্পোর্টমাস্টার।
এমনটি কাজকে দেশের জন্য গৌরবের বলছেন উদ্যোক্তারা। জানান, ২০১৮ সালে বিশ্বকাপের জন্য সাড়ে ৪ লাখ পিস জ্যাকেট আর ২০ সালে ইউরোকাপের ৪ লাখ টি-শার্ট তৈরির কাজ পায় সনেট। সে অভিজ্ঞতার কারণেই আসছে এবার মিলেছে বিশ্বকাপের কাজ। ইতিমধ্যে অর্ধেক পণ্য পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে। বাকি পণ্য যাবে মার্চের প্রথমদিকে।
সনেট টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড ও বিকেএমইএর পরিচালক গাজী মো. শহীদুল্লাহ বলেন, তিন লাখ টি-শার্ট জাহাজীকরণ করা হয়েছে। আরও তিন লাখ টি-শার্ট রপ্তানির অপেক্ষায় আছে। এর আগেও আমাদের প্রতিষ্ঠান থেকে রাশিয়া বিশ্বকাপ ও ইউরো কাপের টি-শার্ট রফতানি করেছিলাম। আমরা নিয়মিত পোশাক রফতানি করি। বিশ্বের বড় একটি ইভেন্টের টি-শার্ট তৈরি করতে পেরে আমরা আনন্দিত।
কারখানাটিতে বিভিন্ন বয়সীদের জন্য বানানো হচ্ছে পাঁচ ধরনের টি-শার্ট। যাতে ব্যবহৃত হচ্ছে দেশীয় ফেব্রিক্স আর সুতা। পরম মমতায় বিশেষ এসব পোষাক তৈরি করছে শ্রমিক-কর্মচারীরা।
একজন শ্রমিক বলেন, চার বছর পরপর বিশ্বকাপ খেলা হয়। আর তখন আমাদের তৈরি জার্সিগুলো তারা পড়বে এটা ভাবতে অনেক ভালো লাগছে।
ফুটবলের মাঠে না হোক, সনেটের এই মেইড ইন বাংলাদেশ লেখা টি-শার্ট দিয়েই বিশ্বকাপ আসরে থাকবে লাল-সবুজের পতাকার স্মারক।