ইউক্রেনের পারমাণবিক শক্তি জ্বালানি নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, পরিত্যক্ত চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছে গামা তেজস্ক্রিয়তা স্বাভাবিক মাত্রার চেয়ে বেশি শনাক্ত হয়েছে। রাশিয়ার সেনাবাহিনী কেন্দ্রটি দখলের পর এই তেজস্ক্রিয়তা বৃদ্ধি শনাক্তের কথা জানালো সংস্থাটি। শুক্রবার মার্কিন বার্তা সংস্থা এপি এই খবর জানিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক সংস্থার পরিদর্শক শুক্রবার জানায়, চেরনোবিল অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি গামা তেজস্ত্রিয়তা শনাক্ত হয়েছে। তবে এই মাত্রা বৃদ্ধি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।
বৃদ্ধির কারণ হিসেবে সংস্থাটি শুধু উল্লেখ করেছে, বর্জনীয় এলাকায় ব্যাপক ভারী সামরিক সরঞ্জামের উপস্থিতির কারণে মাটির উপরের স্তরে ব্যাঘাত ঘটছে এবং এর ফলে দূষিত তেজস্ক্রিয় ধূলিকণা বায়ুতে ছড়াচ্ছে।
ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার তুমুল লড়াইয়ের পর পারমাণবিক কেন্দ্র ও এর আশপাশের বর্জনীয় এলাকার দখল নিয়েছে রাশিয়ার সেনাবাহিনী।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজর জেনারেল ইগর কোনাশেনকভ জানান, রাশিয়ার বিমান বাহিনীর সেনারা যেকোনও সম্ভাব্য উসকানি ঠেকাতে কেন্দ্রটিকে সুরক্ষিত রাখছে।
তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রটির তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা স্বাভাবিক রয়েছে।
ভিয়েনাভিত্তিক আন্তর্জাতিক আণবিক জ্বালানি সংস্থা জানিয়েছে, কেন্দ্রটি দখলের বিষয়ে ইউক্রেন তাদের অবহিত করেছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র এলাকায় কোনও হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কথা জানায়নি কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, বিশ্বের ভয়াবহ পারমাণবিক দুর্ঘটনা ঘটেছিল এই চেরনোবিলে। এটি চেরনোবিল বিপর্যয় নামে ইতিহাসে স্থান পেয়েছে। ১৯৮৬ সালের এপ্রিলে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়নের চেরনোবিল পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে এই দুর্ঘটনা ঘটেছিল। একটি পারমাণবিক রিঅ্যাক্টর বিস্ফোরিত হলে এই দুর্ঘটনার সূত্রপাত হয়। ফলে ইউরোপজুড়ে তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ে। রাজধানী কিয়েভ থেকে উত্তর দিকে ১৩০ কিলোমিটার দূরে এই কেন্দ্রটি অবস্থিত।