সংকটময় পরিস্থিতিতে পাঁচ লাখেরও বেশি ইউক্রেনীয় দেশ ছেড়েছেন৷ জাতিসংঘের শরণার্থী বিভাগের কমিশনার ফিলিপ্পো গ্রান্ডি টুইটবার্তায় জানিয়েছেন, প্রতিবেশী দেশে আশ্রয় নিয়েছেন এই ইউক্রেনীয়রা৷
জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক মুখপাত্র শাবিয়া মান্টু এই প্রসঙ্গে বলেন, ইউক্রেন থেকে পোল্যান্ডে প্রায় দুই লাখ ৮০ হাজার শরণার্থী আশ্রয় নিয়েছেন, হাঙ্গেরিতে আশ্রয় নিয়েছেন ৮৪ হাজার ৫০০ জন, মলডোভাতে আশ্রয় নিয়েছেন ৩৬ হাজার ৪০০ জন, রোমানিয়াতে ৩২ হাজার ৫০০ জন, স্লোভাকিয়ায় রয়েছেন ৩০ হাজার জন৷ বাকিরা অন্য নানা দেশে আশ্রয় নিয়েছেন৷
জাতিসংঘের আপৎকালীন সহায়তা বিষয়ক কর্মকর্তা মার্টিন গ্রিফিথ বলেছেন, তাদের আরও বেশি আর্থিক সাহায্য এবং নিরাপত্তার প্রয়োজন৷ জাতিসংঘ সবরকম সংকটময় পরিস্থিতিতে পাশে রয়েছে৷ মানবিক সহায়তার দিকটি সংকটের পরিস্থিতিতে বাধাপ্রাপ্ত হচ্ছে বলে জানান তিনি৷
পোল্যান্ড, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, রোমানিয়া এবং ইইউ-র বাইরের দেশ মলডোভা সীমান্তে সারি সারি গাড়ি দাঁড়িয়ে রয়েছে৷ কেউ বা সীমান্ত পেরোতে চাইছেন পায়ে হেঁটেই৷ প্রাণ বাঁচিয়ে পালিয়ে যেতে চাইছেন নিরাপদ কোনো আশ্রয়ে৷ কার্পাথিয়ানের পাহাড়ি এলাকায় ছুটি কাটাতে এসেছিলেন বছর ২৪-এর তথ্যপ্রযুক্তিবিদ মারিয়া পাভলুশকো৷ তার দাদি ফোন করে ইউক্রেনের পরিস্থিতির কথা বলেন৷ মারিয়ার বাবা রুশ সেনাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গিয়েছেন৷ তার মা রয়েছেন পোল্যান্ডে কিন্তু দাদি রয়ে গেছেন ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভ থেকে ১০০ কিলোমিটার দূরে৷ তিনি বলেন, ‘‘বাবাকে নিয়ে আমি গর্ববোধ করছি৷ রুশ সেনাদের সঙ্গে লড়াইয়ে গিয়েছেন আমার বাবা৷ আশপাশের অনেক অল্পবয়সি লোকজনও গিয়েছেন৷’’
পশ্চিম ইউক্রেনে পড়াশোনা করেন বছর বাইশের ভারতীয় যুবক মাসরুর আহমেদ৷ তিনি তেরনোপিলে ডাক্তারি পডছেন৷ আরও ১৮ জন ভারতীয় ছাত্রের সঙ্গে তিনি হাঙ্গেরির সীমান্তে আটকা পড়েছেন৷ বুদাপেস্টে পৌঁছানোর অপেক্ষায় মাসরুর, কারণ সেখানে ভারত সরকারের তরফে বিমান পরিষেবার ব্যবস্থা করা হয়েছে৷ বোমা হামলা হতে পারে যে কোনো সময়, এই আতঙ্কে তেরনোপিল ছেড়েছেন তিনি৷
নাইজেরিয়া থেকে খারকিভ মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা করতে এসেছিলেন প্রিসিলা ভাওয়া জিরা৷ তিনিও শহর ছেড়েছেন হামলার আশঙ্কায়৷ বার্তা সংস্থা এপিকে তিনি বলেন, ‘‘প্রতি মুহূর্তে বিস্ফোরণের শব্দ৷ বাঙ্কারে ছুটে যাওয়া–সবমিলিয়ে ভয়াবহ পরিস্থিতি৷’’
হাঙ্গেরি সীমান্তে বেরেগসুরানির রিসেপশন সেন্টারে বেশিরভাগ শরণার্থী জড়ো হচ্ছেন৷ অন্যদিকে ইউক্রেন ছাড়াও ১২৫টি দেশের নাগরিকরা পোল্যান্ডে আশ্রয় নিয়েছেন৷ ভারত, বাংলাদেশ, পাকিস্তান, উজবেকিস্তান, নাইজেরিয়া, ইরান, ইরাক, তুরস্ক, আলজেরিয়ার অসংখ্য অভিবাসী রয়েছেন সীমান্তে৷
"Wir sind von #Kiew abgeschnitten worden. Die Versorgung mit zum Beispiel Lebensmitteln wird bald nicht mehr möglich sein", sagt Pavlo Titko, Leiter der Malteser Hilfsorganisation in der #Ukraine bei #hartaberfair @DasErste. #UkraineKrieg #Putin #UkraineRussiaWar pic.twitter.com/6dOO90BZkf
— hart aber fair (@hartaberfair) March 1, 2022
ইরাক থেকে ইউক্রেনে পড়তে এসেছিলেন ওটোমান আদিল আবিদ, থাকতেন লভবে৷ তিনি সংবাদসংস্থা এপিকে জানান, চারপাশে শুধুই বোমার শব্দ শুনেছেন৷ লভবের আরেক বাসিন্দা ইউক্রেনীয় নাগরিক নাতালিয়া পিভনিউক জানান, ‘‘মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলাম৷’’
কিয়েভ থেকে চার সন্তান-সহ বার্লিনে পৌঁছেছেন আকসেইনিয়া স্টিমেরম্যান৷ কিয়েভ বিশ্ববিদ্যালয়ে টেলিকম বিভাগে কাজ করতেন তিনি৷ নতুন শহর, ভাষাও নতুন, সবটাই অচেনা৷ শুধু সন্তানদের খাবার আর মাথা গোঁজার ঠাঁই খুঁজছেন তিনি৷ জার্মানির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তরফে বলা হয়েছে, ১৮০০ জন ইউক্রেনীয় শরণার্থী জার্মানিতে এসেছেন (সোমবারের হিসেব অনুযায়ী)৷ তবে সংখ্যাটা বাড়ছে, কারণ পোল্যান্ড থেকে একের পর এক ট্রেন আসছে জার্মানিতে ৷
রোমানিয়ার সিরেটে ইইউ-র স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কমিশনার ইলভা ইয়হানসন সীমান্ত পরিদর্শন করেন৷ তিনি বলেন, হাজারো শরণার্থী প্রবেশ করছেন সীমান্ত দিয়ে৷ তবে গোটা ইউরোপীয় ইউনিয়ন এভাবে একসঙ্গে কাজ করছে, এটা খুবই আনন্দের৷ এমন পরিস্থিতিও আগে দেখেননি তিনি৷ তার কথায়, ‘‘ইউরোপ প্রমাণ করে দিয়েছে, এ মহাদেশের মূল্যবোধ অন্যরকম৷ পুটিনের মতো মূল্যবোধের মতো নয়৷’’