যুগ যুগ ধরে বন্দিদের মুখ থেকে তথ্য বের করতে হাত-পা বেঁধে কাতুকুতু দিয়ে নির্যাতনের চল রয়েছে। এ এমন এক নির্যাতন, যাতে শরীরে কোনো চিহ্ন থাকত না। তবে এতে মৃত্যু পর্যন্ত হয়েছে। এককালে অভিজাতরা কাতুকুতুর দাওয়াই দিয়েছেন তাদের প্রজাদের।
প্রথমে চীনের হান রাজবংশ এই উপায়ে নির্যাতন শুরু করলেও কালে কালে তা ছড়িয়ে পড়েছে যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, জার্মানিসহ অনেক দেশে। তবে অত্যাচারের পর্যায়ে পৌঁছে গেলে কাতুকুতু মোটেও হাসি পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে না। জোর করে কাতুকুতু দেয়া হলে বমি করা বা সংজ্ঞাহীন হয়ে যান অনেকে। খবর এবিপি’র।
নাৎসি জার্মানিতে কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে কাতুকুতুর অত্যাচারে বন্দিমৃত্যুও হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রবন্ধে উল্লেখ রয়েছে। ২০৬ খ্রিস্টপূর্বে চীনের হান সাম্রাজ্যে কাতুকুতুকে হাতিয়ার করেই প্রজাদের ওপর অত্যাচার করতেন অভিজাতরা।
চীনের গণ্ডি পেরিয়ে এই দাওয়াই কীভাবে অন্য দেশে পৌঁছল, তা স্পষ্ট জানা যায় না। তবে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তার ফায়দা তুলেছিলেন নাৎসিরা। সমকামী হওয়ার ‘অপরাধে’ জোসেফ কহোয়াট নামের এক অস্ট্রিয়ানকে কনসেন্ট্রেশন ক্যাম্পে বন্দি করেছিলেন তারা। জোসেফের দাবি, ফ্লোসেনবার্গের শিবিরে থাকাকালীন তিনি দেখেছিলেন কীভাবে বন্দিদের ওপর কাতুকুতুর অত্যাচার চালাতেন রক্ষীরা।
ইউরোপের অনেক দেশও এই চীনা দাওয়াই ব্যবহার হয়েছে। ব্রিটিশ মেডিক্যাল জার্নালে তার খুঁটিনাটি তথ্য পাওয়া যায়। ইতালিতে জেলবন্দিদের হাত-পা বেঁধে তাদের পায়ে লবণ-পানি মাখিয়ে দিতেন কর্মকর্তারা। এরপর বন্দিদের উল্টো করে শুইয়ে তাদের সামনে ছেড়ে দেয়া হতো একটি ছাগলকে। বন্দিদের পায়ে মাখানো সেই লবণ-পানি ছাগল চেটে খেতে শুরু করলে প্রথমে কাতুকুতুর অনুভূতি হতো।
তবে ক্রমাগত পা চাটতে থাকায় এক সময় সেই পা শুকিয়ে উঠত। তার পর বন্দিদের পায়ে ফের এক প্রস্থ লবণ-পানি মাখানো হতো। তখনই অস্বস্তিতে পড়তেন বন্দিরা। বারবার এই পদ্ধতিতে বন্দিদের ওপর অত্যাচার চলত।
প্রাচীন জাপানেও পৌঁছে গিয়েছিল চীনের ওই দাওয়াই। ‘শিকেই’ নামের ওই দাওয়াইয়ের অঙ্গ হিসেবে অপরাধীদের নির্দয়ভাবে কাতুকুতু দেয়া হতো। প্রাচীন ইংল্যান্ডে এবং বিংশ শতকে যুক্তরাষ্ট্রেও কাতুকুতুর অত্যাচারের কয়েকটি ঘটনা জানা গেছে।