মালয়েশিয়া প্রতিনিধি: মালয়েশিয়ায় পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে গিয়ে হাইকমিশনের কর্মচারীদের মারধরের শিকার হয়েছেন সবুজ (৩৮) নামে এক প্রবাসী বাংলাদেশি। সোমবার বিকেলে মারধরের শিকার সবুজ হাইকমিশনের ওই কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ এনে রাতেই কুয়ালালামপুরের ডাংওয়াঙ্গি থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
পটুয়াখালী প্রবাসী সবুজ অভিযোগ করেন, মোবাইলে কথা বলাকে কেন্দ্র করে তার ওপর চড়াও হন হাইকমিশনের দুজন কর্মচারী। নির্দিষ্ট সময়ের পরও পাসপোর্ট সংগ্রহের জন্য তাকে অপেক্ষা করতে বলা হয়। পরে একটি কক্ষে ডেকে নিয়ে তাকে বেধড়ক পেটান দুজন কর্মচারী।
সবুজ বলেন, মারধর থেকে বাঁচতে হাতে পায়ে ধরেও শেষ রক্ষা হয়নি। এ সময় কাউকে জানালে পাসপোর্ট বাতিল করে দেশে পাঠিয়ে দেওয়ারও হুমকি দেন হাইকমিশনের ওই কর্মচারীরা। আহত সবুজ পরবর্তীতে সহকর্মীদের সহযোগিতায় পার্শ্ববর্তী কুয়ালালামপুর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
সবুজ আরও বলেন, ঘটনার পর হাইকমিশনারের সঙ্গে দেখা করে নালিশ করলে তিনি এর সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাস দিয়ে এ জন্য ক্ষমা চান।
তবে বিনা অপরাধে গায়ে হাত তোলার এ ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনতে মধ্যরাতেই কুয়ালালামপুরের ডাংওয়াঙ্গী থানায় হাইকমিশনের এ কর্মচারীদের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করেন সবুজ।
এদিকে মালয়েশিয়া প্রবাসী কর্মীর পাসপোর্ট সংগ্রহ করতে গিয়ে মারধরের এ ঘটনা নানান মহলে বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগেমাধ্যমে বইছে সমালোচনার ঝড়। মারধরের পর প্রবাসী সবুজের একটি ভিডিও ঘুরছে টাইমলাইনে যেখানে ঘটনার বর্ণনা দিতে দেখা গেছে ১৪ বছর ধরে মালয়েশিয়ায় থাকা সবুজকে।
সাধারণ প্রবাসীরা বলছেন করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলেও পাসপোর্ট সেবায় এখনও গতি আনতে পারেনি হাইকমিশন। যদিও সম্প্রতি ভার্চুয়াল এক অনুষ্ঠানে কয়েক মাসে আড়াই লক্ষাধিক পাসপোর্ট পোস্ট অফিসের মাধ্যমে বিতরণ করা হয়েছে বলে জানান হাইকমিশনার মো. গোলাম সারওয়ার।
এদিকে ঘটনার পর এখনও পর্যন্ত হাইকমিশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মেলেনি উত্তর।