আধুনিক ক্রিকেটে টস জিতে ফিল্ডিংই নিয়মিত দৃশ্য। তাই দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ডারবান টেস্টে টস জিতে বাংলাদেশ অধিনায়ক মমিনুল হকের ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্তে অবাক হয়েছেন অনেকেই। যদিও এই সিদ্ধান্ত পুরো টিম ম্যানেজমেন্ট মিলেই নিয়েছে।
টস জিতলে ব্যাটিং না ফিল্ডিং- এটা নিয়ে গত কিছুদিন ধরেই জোর অলোচনা হয়েছে দলীয় সভায়।
সেসব আলোচনার শুরুতে আগে ব্যাটিংয়ের পক্ষে ভোট বেশি থাকলেও ম্যাচ যত ঘনিয়ে এসেছে, ততই এগিয়েছে প্রথমে ফিল্ডিংয়ের মতবাদ। গতকাল রাতে ডারবানের টিম হোটেলের সামনে টিম ম্যানেজমেন্টের একটি জটলাতেও টস নিয়ে আলোচনা চলছিল। প্রথমে ব্যাটিং নিয়ে যদি পাঁচ সেশন ব্যাটিং করা যায়, তাহলে চাপে ফেলা যাবে দক্ষিণ আফ্রিকাকে- এই মত দ্রুতই পাল্টে যায় ফিল্ডিং নেওয়ার সিদ্ধান্তের পক্ষে রক্ষণাত্মক যুক্তিতে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে টিম ম্যানেজমেন্টের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্য বলেছেন, ‘ডারবানের উইকেট কেমন ব্যবহার করবে, জানি না। যদি উইকেট উল্টাপাল্টা ব্যবহার করে, তাতে যদি ব্যাটিংটা ভালো না হয়, তাহলে তো প্রথম দিনই ব্যাকফুটে চলে যাব। তা ছাড়া আমরা তিন পেসার নিয়ে খেলছি। বরং ওরা যদি কিছু করে ফেলতে পারে…। ‘
উইকেট নিয়ে এই দ্বিধার জন্ম ওয়ান্ডারার্সে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে। দক্ষিণ আফ্রিকার কন্ডিশন জানতে হেড কোচ রাসেল ডমিঙ্গো ও পেস বোলিং কোচ অ্যালান ডোনাল্ডের অভিমতের ওপর নির্ভর করছে বাংলাদেশ দল। তাই দ্বিতীয় ওয়ানডের আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্তও হেড কোচের পরামর্শে নিয়েছিল বাংলাদেশ। ওয়ান্ডারার্সের উইকেটের ও রকম ওঠা-নামা দেখে ডমিঙ্গোও বিস্মিত হয়েছিলেন। তারই প্রভাবে কিনা, ডারবানের উইকেটে ঘাস দেখে এর আচরণ নিয়ে স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেননি ডমিঙ্গো কিংবা ডোনাল্ড। আক্রমণ থেকে বাংলাদেশ দলের রক্ষণাত্মক মেজাজে চলে যাওয়ার কারণও এটাই। উইকেটের আচরণকে ঘিরে অনিশ্চয়তা এবং আগে ঘর সামলে আক্রমণের চিন্তা। তার ওপর সকালে তামিম ইকবালের অসুস্থতার খবরটি আগে ফিল্ডিংয়ের সিদ্ধান্তের পক্ষে বাড়তি ভোট দিয়ে থাকতে পারে।