কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে স্বামীর ঘর থেকে তাহমিনা আক্তার পিনু (২৮) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাহমিনার বাবার দাবি, টাকার জন্য প্রায়ই তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন স্বামী। এ ঘটনায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে স্বামীর বিরুদ্ধে চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলা হয়েছে। আজ শনিবার দুপুরে ওই মামলায় স্বামী ইফতেখারুল মজুমদার রাসেলকে (৩২) আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।
এর আগে গতকাল শুক্রবার রাতে উপজেলার কনকাপৈত ইউনিয়নের কালকোট গ্রামের মজুমদারবাড়ির রাসেলের ঘর থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। শনিবার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, প্রায় তিন বছর আগে উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের নোয়াপুর গ্রামের মো. ইউনুস মিয়ার মেয়ে তাহমিনার সঙ্গে কালকোট গ্রামের ওয়ালি উল্লাহর ছেলে রাসেলের বিয়ে হয়।
ওই গৃহবধূর বাবা ইউনুস মিয়া বলেন, ‘বিয়ের কিছুদিন পরেই নিজের ব্যবসা প্রসারিত করার জন্য টাকার প্রয়োজন দেখা দিলে রাসেল তাহমিনাকে আমার কাছ থেকে টাকা আনার জন্য চাপ প্রয়োগ করে। পরে মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে বিভিন্ন সময়ে রাসেলকে ২৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়েছি। এর পরও স্বামীর ঘরে শান্তিতে বসবাস করতে পারেনি তাহমিনা। আরো টাকার জন্য রাসেল বিভিন্ন সময় তাহমিনাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন অব্যাহত রাখে। তাহমিদ মজুমদার আয়ান নামে ১৩ মাস বয়সী একমাত্র সন্তানের কথা চিন্তা করে নানা প্রকার নির্যাতন সহ্য করে আমার মেয়ে স্বামীর সংসার করেছে। সর্বশেষ শুক্রবার রাতে মেয়ের মৃত্যুর খবর পাই। পরে রাতেই রাসেলের বিরুদ্ধে থানায় আত্মহত্যায় প্ররোচনার মামলা দায়ের করেছি। ‘
চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, ‘আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে শুক্রবার রাতে রাসেলের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করেছেন ওই গৃহবধূর পিতা। রাতেই অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত রাসেলকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেব।