সুন্দরবনে কতগুলো বাঘ, হরিণ, কুমির ও বানর আছে তা সংসদকে জানালেন পরিবেশ বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী শাহাব উদ্দিন। সোমবার (৪ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে সরকার দলীয় সংসদ সদস্য দিদারুল আলমের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী বলেন, সুন্দরবনে ক্যামেরা ট্র্যাপিং পদ্ধতিতে ২০১৫ সালে সর্ব প্রথম বাঘ গণনা করা হয়। সে সময় গণনা করে ১০৬টি বাঘ পাওয়া যায় এবং সর্বশেষ ২০১৮ সালের জরিপ অনুযায়ী সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ১১৪টি। এছাড়াও, সুন্দরবনে এক লাখ থেকে দেড় লাখ হরিণ, ১৬৫ থেকে ২০০টি কুমির এবং ৪০ হাজার থেকে ৫০ হাজার বানর রয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, সুন্দরবনের বাঘ, হরিণ ও কুমির নিধন বন্ধে সরকার ২০১২ সালে বন অধিদফতর, কোস্টগার্ড ও র্যাবের সমন্বয়ে টাস্কফোর্স গঠন করে সুন্দরবন থেকে দুষ্কৃতকারী, জলদস্যু বিতাড়িত করা হয়। তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের জাতীয় পশু বাঘ রক্ষায় ‘Bangladesh Tiger Action Plan’ (২০১৯-২০২৭) প্রণয়ন করা হয়েছে। সুন্দরবনে বন্যপ্রাণী অপরাধ বন্ধে বনকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ প্রদান করে স্মার্ট (SMART-Spatial Monitoring And Reporting Tool) টহল ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়। উক্ত বিশেষ টহল ব্যবস্থায় দ্রুতগামী জলযান ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়।
সুন্দরবনের চারটি বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্যের পরিমাণ পূর্বের ২৩ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ৫২ শতাংশ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্যে টহল জোরদার করা হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।
মোঃ. শাহাব উদ্দিন বলেন, বন্যপ্রাণী প্রজনন মৌসুম জুন-জুলাই-আগস্ট এই তিন মাসে সুন্দরবনে সব ধরনের পাস-পারমিট বন্ধ রাখা হয়। সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল জেলে, বাওয়ালী, মৌয়ালীদের বাঘ, হরিণ ও কুমির নিধন বন্ধে নিয়মিত সচেতনতামূলক সভা ও উঠান বৈঠকের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সুন্দরবনের বন্যপ্রাণী পাচাররোধে দুবলার চরে রাসমেলা স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, সুন্দরবন রক্ষায় বন-ব্যবস্থাপনার জন্য চার রেঞ্জে চারটিসহ ব্যবস্থাপনা কমিটি, প্রতিটি গ্রামে পিপলস ফোরাম, ভিলেজ কনজারভেশন ফোরাম, কমিউনিটি পেট্রোল গ্রুপ কার্যকর রয়েছে।
এছাড়াও বেনজীর আহমেদের এক প্রশ্নের জবাবে বন মন্ত্রী জানান, বর্তমানে বনের পরিমাণ মোট ভূমির ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ এবং বৃক্ষাচ্ছাদনের পরিমাণ মোট আয়তনের ২২ দশমিক ৩৭ শতাংশ।