মুন্সিগঞ্জে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে দুই বন্ধুকে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে হত্যার পর ধলেশ্বরীতে নদীতে ফেলে দেয়ার অভিযোগ উঠেছে তিন বন্ধুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিখোঁজের তিনদিন পর ধলেশ্বরী নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় ওই দুই কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করে মুক্তারপুর নৌ পুলিশ।
বুধবার (৬ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০ টার দিকে সদর উপজেলার নয়াগাঁও ও মিরকাদিমের কাঠপট্টি এলাকা থেকে এ দুই কিশোরের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, মাদক নিয়ে বিরোধ ও কবুতর চুরিকে কেন্দ্র করে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে চেতনানাশক ওষধ খাইয়ে হত্যার পর নদীতে ফেলে দেয়া হয় এ দুইজনকে। তবে পুলিশ বলছে ঘটনার মূল কারণ জানা যাবে ময়নাতদন্ত শেষে।
নিহতের পরিবার ও স্থানীয়রা জানায়, গত সোমবার দুপুর ২ টার দিকে বাড়ি থেকে তাদের মিরকাদিমের কাঠপট্টি এলাকায় ডেকে নিয়ে যায় তিন বন্ধু অপূর্ব, রুবেল ও রনি।
এরপর থেকে নিখোঁজ ছিল রিয়াম (১৭) ও আলমগীর (১৮)। পরে আলমগীরের পরিবারের পক্ষ থেকে হাতিমারা পুলিশ ফাঁড়িতে একটি নিখোঁজ ডায়েরি করা হয়। নিখোঁজের তিন দিন পর বুধবার সকালে ধলেশ্বরী নদীতে ভাসমান অবস্থায় তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
পরে ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার শেষে মুন্সিগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় পুলিশ।
এ ঘটনায় নিহতদের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তাদের দুই বন্ধু রনি ও রুবেলকে আটক করে পুলিশ। তবে এখনও পলাতক রয়েছে অপূর্ব।
নিহত ওই দুই কিশোরের বাড়ি মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার মুক্তারপুরের গোসাইবাগ ও মিরকাদিমের মস্তান বাজার বাস তলা এলাকায়।
এ ব্যাপারে মুক্তারপুর নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক রবিউল ইসলাম বলেন, নিহত ওই দুই কিশোরের শরীরে আঘাতের তেমন কোনো গুরুতর চিহ্ন না পাওয়া গেলেও, পানিতে ডুবে তাদের মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।