খন্দকার জসিম উদ্দিন (নকলা শেরপুর): অষ্টম শ্রেণির মাদ্রাসা ছাত্রী আকাশি। ছয় ভাই বোনের মধ্যে সে মেঝো। পড়াশোনা আর হাসি খুশিতেই সময় কাটছিল তার। মাঝে মাঝে মাথা ব্যথ্যা হত আবার ভালো হয়ে যেতো। গরীব বাবা চিকিৎসা করাতে থাকেন। হঠাৎই একদিন প্রচন্ড রকমের মাথাব্যাথা শুরু হয় আকাশির ।
কে জানে আকাশির শরীরে বাসা বেঁধেছে মারাত্মক এক ব্যাধি। শেরপুর নকলা পৌরসভার জালালপুর গ্রামের দরিদ্র আহালু মিয়ার তৃতীয় কন্যা আকাশি।
দীর্ঘ চার বৎসর যাবৎ মাথা ব্যাথা, মাঝে মাঝে নাক দিয়ে রক্ত পড়া, নাক বন্ধ থাকায় কিশোরী আকাশীর জীবন দূর্বিসহ হয়ে উঠেছিল।
মেয়ের দীর্ঘ চিকিৎসায় বাবার ক্ষুদ্র আয়ের সংসারেরও সব শেষ। চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে না পেরে মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার উপক্রম তার অসহায় বাবার।
অবশেষে নজরে আসে নকলা অদম্য মেধাবী সংস্থার।
অদম্য মেধাবী সংস্থার সদস্যগন শেরপুর নাক কান গলা বিভাগের ডা: সাফি সাহেবের স্বরনাপন্ন হন,ডাঃ সাফি ব্যায় বহুল বিভিন্ন পরীক্ষা নীরিক্ষা করানোর পর বলেন, নাকের পলিপাস রয়েছে, অপারেশন লাগবে।
অদম্য মেধাবী সংস্থা মনে করেছে আরও উন্নত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। অদম্য মেধাবী সংস্থা আকাশিকে নিয়ে যান ময়মনসিংহে নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ ও হেড নেক সার্জন
ডা: সাকের আহাম্মেদ সাহেবের নিকট। তিনি পূর্বের ডাক্তার সাফির সাহেবের পরামর্শে করানো সিটিস্কেন, এক্সরে আরও বিভিন্ন পরীক্ষা নীরিক্ষা গুলি দেখেন।
ডাক্তার সাকের আহাম্মেদ নিজেই বিভিন্ন পরীক্ষা করেন এবং পূর্বের পরীক্ষা নীরিক্ষা পর্যবেক্ষন করে বলেন,নাকের উপরের অংশে ভিতরে টিউমার এবং পলিপাস রয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে সার্জারীর পরামর্শ দেন।
গত ৫ এপ্রিল নাক কান গলা বিশেষজ্ঞ ও হেড নেক সার্জন ডা: সাকের আহাম্মেদ এমবিবিএস (ঢাকা),বিসিএস স্বাস্থ্য, এফসিপিএস(ইএনটি)ফলো ডাব্লিওএইচও(হেড নেক সার্জারী)শ্রীলংকা,বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মাইক্রো ইয়ার সার্জারী (মাদ্রাজ) সহযোগী অধ্যাপক( ইএনটি)বিভাগীয় প্রধান(ইএনটি),ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, অত্যন্ত আন্তরিকতার সহিত দীর্ঘ ২ ঘন্টা অস্ত্রপাচারের মাধ্যমে দুটি মেজর অপারেশন সম্পন্ন করেন।
ডাক্তার সাকের আহাম্মেদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান, অষ্ট্রেলিয়া প্রবাসী নকলা অদম্য মেদাবী সংস্থার চেয়ারম্যান আবু শরিফ কামরুজ্জামান। আকাশি এখন সম্পন্ন সুস্থ।