ময়মনসিংহ ব্রক্ষপুত্র নদ খনন প্রকল্পে গত তিন বছরে মাত্র ১০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হওয়ায় ময়মনসিংহবাসীর কাছে প্রকল্পের কাজ নিয়ে অস্পষ্টতা দেখা দিয়েছে। এ নিয়ে একাধিবার জনউদ্যোগসহ বিভিন্ন সংগঠন মানববন্ধন ও স্মারকলিপি প্রদান করেই যাচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ২৭৬৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্রক্ষপুত্র নদ খননের নামে নদকে খালে পরিণত করা হচ্ছে। সরকারি টাকা প্রকল্পের নামে এভাবে কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পকেট ভরাট হোক তা ময়মনসিংহবাসী চায় না। বালু উত্তোলন করে নদের কাছে জমাট করে বালু ব্যবসায়ীদের আরও সুযোগ করে দেয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
জানা গেছে, ২৭৬৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা ব্যয়ে জামালপুরের পুল্লিকান্ডি থেকে কাপাসিয়ার টোক পর্যন্ত পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের ২২৭ কিলোমিটার খনন কাজের চলমান অগ্রগতি পর্যালোচনা ও অবহিতকরণ এক সভা গত ৫ এপ্রিল বিকালে ময়মনসিংহ জেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়। খনন কর্তৃপক্ষ বিআইডব্লিউটিএ’র আয়োজনে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক।
সভায় প্রকল্প পরিচালক প্রকৌশলী রাকিবুল ইসলাম তালুকদার জানান, সবকিছু স্বাভাবিক থাকলে ২০২৩ সালের জুন মাসের মধ্যেই এই নদে লঞ্চ-স্টিমার চলবে। তবে করোনা মহামারির কারণে এ পর্যন্ত মাত্র ১০ ভাগ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। প্রকল্পের মেয়াদ আরও দু বছর বাড়িয়ে কাজ সম্পন্ন করার আশা ব্যক্ত করেন তিনি।
অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) জানান, উত্তোলিত বালি বিক্রি থেকে এ যাবৎ ১০ কোটির বেশি টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে। বাকি বালি বিক্রির প্রক্রিয়া চলমান আছে বলেও জানান তিনি।
সভায় জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল হক বলেন, শিগগিরই নদের সীমানা চিহ্নিত করার কাজ শুরু হবে এবং অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করা হবে।
এ বিষয়ে জনউদ্যোগ এর সভাপতি নজরুল ইসলাম চুন্ন জানান, গত প্রায় চার বছরে মাত্র ১০ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে। আরও দুই বছর বাড়ালে প্রকল্প পরিচালকের কথায় মেযাদ মাত্র ৩০ থেকে ৪৫ ভাগ কাজ শেষ হবে। নদে কিভাবে লঞ্চ স্টিমার চলবে বোধগম্য হয় না। আর এভাবে চললে প্রকল্পের টাকায় পকেট ভারী হবে আর কিছু না। নদ খনন হলে নদের সঙ্গে যে খালগুলো আছে সেগুলো খনন করতে হবে বলেও দাবি করেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ব্রহ্মপূত্র নদ খননের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয় ২০১৯ সালের আগস্ট-সেপ্টেম্বরে। এই প্রকল্প ব্যয় দুই হাজার ৭০৬৩ কোটি ৬০ লাখ টাকা। এই টাকায় খনন হবে জামালপুর, ময়মনসিংহ ও কিশোরগঞ্জের পুরনো ব্রহ্মপুত্র নদের অংশ। এ অংশটুকু মোট ২২৭ কিলোমিটার। প্রকল্পের কাজ শেষ হবে ২০২৪ সালের জুনে। বিআইডাব্লিউটিএ নদ খননের কাজ বাস্তবায়ন করছে। কাজটি শেষ হলে এটি আন্তর্জাতিক নৌপথ হিসেবে ব্যবহৃত হবে।