ফেসবুকে সামিয়া জাহান নামে এক নারীর নামে আইডি খুলে মাদরাসা শিক্ষকের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলেন এক প্রতারক। এরপর দেখা করার কথা বলে সিলেটের পর্যটন এলাকা জাফলংয়ে ডেকে নিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) গভীর রাতে জাফলংয়ের সংগ্রামপুঞ্জি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
হত্যাকাণ্ডের শিকার কাউছার আহমদ রাজু (৩০) সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কালাম্বরপুর গ্রামের আব্দুল বাছিতের ছেলে। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগরের একটি মাদরাসায় শিক্ষকতা করতেন।
গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কে এম নজরুল ইসলাম বলেন, সামসুল ইসলাম হাসান ছয়-সাত মাস আগে সামিয়া জাহান নামে একটি ফেসবুক আইডি খুলে নিহত মাদরাসা শিক্ষক কাউছার আহমদ রাজুকে রিকোয়েস্ট পাঠিয়ে বন্ধুত্ব করেন। এরপর থেকে তাদের মধ্যে নিয়মিত মেসেঞ্জারে চ্যাটিং হতো। এক পর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরি হয়। পহেলা বৈশাখের দিন রাজুকে ফেসবুক মেসেঞ্জারে জাফলং আসার জন্য বলেন। তার সঙ্গে দেখা করতে নিহত রাজু জাফলং আসেন এবং সামসুল তাকে জাফলংয়ের মেঘালয় হোটেলে নিয়ে যান।
হোটেলে দেখা করতে গেলে সামসুল তার সঙ্গে থাকা পিস্তল সদৃশ লাইটার দিয়ে রাজুকে ভয় দেখিয়ে জিম্মি করেন। পরে রাজুর স্ত্রীর কাছে ফোন দিয়ে দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করেন। রাজুর স্ত্রী ওই টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানান। পরে তাকে পিস্তলের ভয় দেখিয়ে একটি টমটমে নিয়ে জাফলং জিরো পয়েন্ট সংলগ্ন বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের নির্জন স্থানে নিয়ে দুই হাত-পা কাপড় দিয়ে বেঁধে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
এরপর জাফলং মেঘালয় হোটেল থেকে পুলিশ আজ ভোর ৪টায় সামসুলকে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে ব্যবহৃত চারটি মোবাইল ফোন ও নিহত রাজুর দুটি মোবাইল ফোন, একটি পিস্তল সদৃশ লাইটার জব্দ করে পুলিশ।