নাটোরের গুরুদাসপুরে ঝড়বৃষ্টিতে পাকা সড়ক হয়ে গেছে কাদামাটির কাঁচা রাস্তা। ইঞ্জিনচালিত গাড়ি দূরের কথা, হেঁটে যাওয়াও কষ্টকর। একের পর এক ঘটছে দুর্ঘটনা। এতে প্রতিবাদে সড়কে ধানের চারা রোপণ করেন স্থানীয়রা। বুধবার (২০ এপ্রিল) সকাল থেকে এমন চিত্র দেখা গেছে উপজেলার কমপক্ষে ১৫টি জনগুরুত্বপূর্ণ সড়কে।
উপজেলার চাঁচকৈড় এলাকার অধিবাসী মেহেদী হাসান জানান, দেখে বোঝার উপায় নেই এগুলো পিচঢালা পাকা সড়ক। মাটির প্রলেপ পড়ে কাঁচা রাস্তা হয়ে গেছে।
বনপাড়া বাজারের অধিবাসী ও ঠিকাদার রেজাউল করিম জানান, বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কের হাজিরহাট থেকে কাছিকাটা বিশ্বরোড মোড়, কাছিকাটা থেকে চাঁচকৈড়, আনন্দনগর থেকে খুবজীপুর, নারীবাড়ি থেকে নাজিরপুরসহ উপজেলার কমপক্ষে ১৫টি সড়কে এমন বেহাল অবস্থা দেখা যায়। এমন পরিস্থিতিতে বুধবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত বেশ কয়েকটি দুর্ঘটনাও ঘটেছে।
চাঁচকৈড় মধ্যপাড়ার বাসিন্দা আজিজ ও কাছিকাটা সড়কের পাশের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই পুকুর খননকারী মাটি ব্যবসায়ীরা মাটি বিক্রি করছে। আর মাটি বহনকারী গাড়িগুলো চলার সময় কিছু মাটি ওই রাস্তাগুলোর ওপর পড়তো। বৃষ্টি হওয়ায় ওই মাটিগুলো রাস্তার ওপর কাদার স্তর তৈরি করেছে। ফলে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। রাস্তাগুলোর এমন বেহাল দশার কারণে দুর্ঘটনাও ঘটছে দাবি করে শিগগিরই ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
ওই এলাকার আব্দুস সালাম জানান, উপজেলা জুড়ে আবাদি জমিতে পুকুর খননের পর ওই মাটি বিক্রি করার ধারাবাহিকতায় এই অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন বারবার অভিযান চালিয়েও মাটি ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করতে পারেনি। এমন অবস্থা দেখে স্থানীয় যুবক-কৃষকরা প্রতিবাদে রাস্তার ওপর ধানের চারা রোপণ করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে গুরুদাসপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আবু রাসেল এবং ইউএনও তমাল হোসেন জানান, বিষয়টি জানার পর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিছু রাস্তা ইতোমধ্যেই চলাচলের উপযোগী হয়েছে। বাকিগুলের বিষয়ে কাজ চলছে।