পাবনায় ইফতারির খাবার খেয়ে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট গোলাম কিবরিয়া ও তার অধীনস্থ আদালতের ৯ বিচারকসহ তাদের পরিবারের অন্তত ৩০ জন অসুস্থ হয়েছে।
এ ঘটনায় নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ এর ৩৩ ধারায় মামলা দায়েরের পুলিশ বৃহস্পতিবার (২১ এপ্রিল) সন্ধ্যায় শহরের কাশমেরী রেস্টুরেন্টের মালিকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তাররা হলেন, শহরের রুপকথা রোডের কাশমেরী হোটেলের স্বত্বাধিকারী হাসানুর রহমান রনি, ব্যবস্থাপক সাব্বির হোসেন ও নাজমুস সাদাত মাসুদ।
পাবনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাসুদ আলম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, গত বুধবার (২০ এপ্রিল) সন্ধ্যায় পাবনা চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টের একজন বিচারকের বিদায় অনুষ্ঠানকে উপলক্ষে বিদায় ও ইফতার অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। ওই অনুষ্ঠানে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের অধীনস্থ আদালতের ৯ জন বিচারক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
ইফতারের জন্য ৭০ প্যাকেট ইফতারি ও বিরিয়ানি প্যাকেট সরবরাহের জন্য পাবনা শহরের রুপকথা রোডের কাশমেরী হোটেলে অর্ডার দেয়া হয়। হোটেল থেকে সরবরাহ করা ইফতার ও খাবার খেয়ে অন্তত ৩০ জন অসুস্থ হন। বৃহস্পতিবার রাতে তাদের মধ্যে ৬ জনকে পাবনার বেসরকারি শিমলা হাসপাতালে চিকিৎসা ও পরীক্ষা নিরীক্ষা করা হয়। অন্যরা নিজ নিজ বাসায় প্রাথমিক চিকিৎসা নিচ্ছেন।
পাবনার অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম বলেন, তিনি ও তার স্ত্রী ওই রেস্টুরেন্টের ইফতারের খাবার খেয়ে অসুস্থ হয়ে বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
এ ঘটনায় পাবনার সিভিল সার্জন কার্যালয়ের নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মাহবুব আলম বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার বিকেলে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩ এর ৩৩ ধারায় সদর থানায় মামলা করেন।
পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় কাশমেরী হোটেল মালিকসহ ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
মামলার বাদী নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক মাহবুব আলম বলেন, ঘটনার বিষয়ে জানার পর ওই রেস্টুরেন্টের সরবরাহ করা খাবার পরীক্ষা করে দেখা যায় খাবারগুলো বাসি, দুর্গন্ধযুক্ত এবং অত্যাধিক তৈলাক্ত ছিল। খাবারগুলো খাওয়ার অনুপযুক্ত ছিল। যে কারণে তারা খাদ্য বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হন।