বিশ্ব মা দিবসে বৃদ্ধাশ্রম নিয়ে বিতর্ক ছড়ালেন অভিনেত্রী সুদীপ্তা চক্রবর্তী। তার মতে, বৃদ্ধ মা-বাবাকে বৃদ্ধাশ্রমে রেখে আসা, খারাপ কিছু নেই। এমন মন্তব্যের কারণে কটাক্ষের শিকার হচ্ছেন তিনি। গতকাল রবিবার (৮ মে) ছিল বিশ্ব মা দিবস। এদিন টলিউডের নির্মাতা সপ্তর্ষি রায় ফেসবুকে লেখেন, বলছিলাম, সবাই যদি মাকে এত ভালোবাসেন, তাহলে বৃদ্ধাবাসগুলোতে কারা থাকেন? তাদের ছেলেমেয়েরা বোধহয় কেউই এই ফেবুপাড়ায় নেই!
সপ্তর্ষির পোস্টে বেশিরভাগই যখন তাঁকে সমর্থন করছিলেন, তখন সুদীপ্তা বলে বসেন একদম উলটো কথা। সেই পোস্টের কমেন্ট গিয়ে মন্তব্য করেন, বৃদ্ধাশ্রমের সঙ্গে মা-বাবাকে না ভালোবাসার কোন সম্পর্ক কিন্তু নেই। আজকের নিউক্লিয়ার ফ্যামিলির দায়িত্ববান ছেলে-মেয়েরা বাবা-মাকে বৃদ্ধাবাসে রাখেন তাঁদের সুবিধার জন্যই। আমরা সারাদিন কাজের পিছনে ছুটব, টাকা রোজগার করব, বাচ্চা মানুষ করব, নানান দায়িত্ব পালন করব সারাদিন, আর মা-বাবা একা একা বাড়িতে বসে টিভি সিরিয়াল দেখে একাকিত্ব কাটানোর ব্যর্থ চেষ্টা করবেন, কোনও ইমার্জেন্সিতে দায়িত্ববান কাউকে তখনি আশেপাশে পাবেন না.. এমন অবস্থায় রেখে দেওয়ার চেয়ে অনেক স্বাস্থ্যকর হল সমবয়সী আরও অনেকগুলো মানুষের সঙ্গে অবসর জীবন কাটানো। দরকারে, মেডিক্যাল ইমার্জেন্সিতে পাশে সঠিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত লোকজন পাওয়া অনেক বেশি জরুরি।
সুদীপ্তার কথা থেকে সাফ উঠে এল তাঁর বিশ্বাস শুধু মা-বাবাকে পাশে রাখলেই দায়িত্ব পালন হয় না। বরং, তাঁদের ভালো থাকার দায়িত্ব নেওয়াই বেশি জরুরি। নিজের বাড়ির একাকিত্বে সেই ভালো থাকা সম্ভব না হলে, বৃদ্ধাশ্রমে সমবয়সীদের সঙ্গে সাহচর্য পেলে তাঁরা ভালো থাকবেন। সেখানে তাঁদের শরীরের খেয়াল রাখার সঠিক লোকও তো থাকবে। যা হয়তো বাড়িতে ছেলে-মেয়ে কাজের চাপে সঠিকভাবে করে উঠতে পারেন না!
কিন্তু এটাতে কোনোভাবেই একাত্ম হতে পারছেন না পরিচালক সপ্তর্ষি। তিনি সুদীপ্তাকে বলেছেন, ‘ক্ষমা করিস, সহমত নই! ছেলে-মেয়ে ও নাতি-নাতনিরা থাকতে কোনও মা-বাবার ক্ষেত্রে বৃদ্ধাবাস কখনোই বাসযোগ্য হতে পারে না! মা-বাবারা তাদের ছেলে-মেয়েদের কাছে টাকা পয়সা, বিশাল অট্টালিকা, বিদেশি গাড়ি, পোশাক, প্রসাধন বা অন্যান্য স্বাচ্ছন্দ্য খুব একটা চান না৷ বৃদ্ধ বয়সে ছেলে-মেয়ে, নাতি-নাতনিদের একটু সান্নিধ্যই প্রত্যাশা করেন৷ কেবল নির্মাতা সপ্তর্ষি নয়, আরও অনেকেই সুদীপ্তার ওই মন্তব্যের বিরোধিতা করেছেন। সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস।