ডগ স্কোয়াডের প্রশিক্ষণ নিতে নেদারল্যান্ডসে গিয়ে নিখোঁজ কনস্টেবল রাসেল চন্দ্র দের পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করেছে পুলিশ। কক্সবাজার সদর থানার ওসি (তদন্ত) সেলিম উদ্দিন এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘প্রশিক্ষণে গিয়ে নিখোঁজ পুলিশের দুই সদস্যের একজন কক্সবাজার পৌরসভার। তার নাম রাসেল চন্দ্র দে। এ ঘটনায় রাসেল কি সত্যি সত্যিই নিখোঁজ, নাকি নিজ ইচ্ছায় লুকিয়ে আছেন, তা যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। এ জন্য পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। রাসেলের বাবা লক্ষণ চন্দ্র দে, মা রেবা রানী দে, স্ত্রী পম্পী রাণীসহ অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।’
তবে স্বজনরা জানিয়েছেন, রাসেলের দেশে ফিরে আসার কথা ছিল। পরিবারের জন্য শপিংও করেছিলেন তিনি।
রাসেলের বড় বোন কমলা পাল বলেন, ‘সর্বশেষ ২০ মে রাসেল তার স্ত্রী পম্পীর সঙ্গে কথা বলে। স্ত্রীকে সে কসমেটিক কেনার কথা জানায়। কিন্তু তারপর থেকে আর কোনও যোগাযোগ হয়নি। ২৫ মে পুলিশের পক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়, প্রশিক্ষণে যাওয়া টিমের ছয় সদস্য একদিন আগে (২৪ মে) দেশে ফিরেছে। তবে রাসেল নিখোঁজ।’
নিখোঁজ পুলিশ সদস্য রাসেলের বাড়ি কক্সবাজার পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পল্লাইন্নাকাটা এলাকায়। গত ৯ মে প্রশিক্ষণের জন্য চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) আট সদস্যের একটি দলের সঙ্গে নেদারল্যান্ডসে যান তিনি। পরে ২৪ মে অন্যরা দেশে ফিরলেও টিমের সদস্য রাসেল ও শাহ আলম ফেরেননি। এ নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) কমিশনার সালেহ মোহাম্মদ তানভীর তাদের বিষয়ে সদর দফতরে ‘মিসিং রিপোর্ট’ করেছেন।
কনস্টেবল রাসেল ও শাহ আলমের না ফেরার বিষয়ে সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর) আমির জাফর স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ‘প্রশিক্ষণ শেষে দেশে ফেরার আগের দিন ঘুরতে যাওয়ার কথা বলে হোটেল থেকে বের হয়ে যান তারা। এরপর থেকে তাদের খুঁজে পাওয়া যায়নি। তাদের সঙ্গীরা কোনও খোঁজ দিতে পারেননি। পুলিশ সদর দফতর ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে তাদের খোঁজ করা হচ্ছে। তারা স্বেচ্ছায় পালিয়ে গেছেন, নাকি কোথাও বিপদে পড়েছেন তা জানা যায়নি। পরিবারের সদস্যরাও তাদের বিষয়ে কিছু বলতে পারছেন না।’
রাসেল চন্দ্র দে ২০১৬ সালে পুলিশের চাকরিতে যোগ দেন। ২০২১ সালের জুনে তিনি বিয়ে করেন। তার তিন মাস বয়সী একটি সন্তানও রয়েছে।