টাঙ্গাইল কারাগারে নাদীয়া জাহান শেলী নামের এক নারী কয়েদির মৃত্যু হয়েছে। সুচিকিৎসার অভাবে ওই কয়েদির মৃত্যু হয়েছে দাবি করে জেল সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন ও ডেপুটি জেলারসহ অজ্ঞাতনামা অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছেন তার স্বামী মো. মিনহাজ উদ্দিন। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় টাঙ্গাইল প্রেস ক্লাবে আসামিদের বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ওই নারী কয়েদির পরিবার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ওই নারী কয়েদির মেয়ে সোনালী আক্তার বলেন, তার মা নাদীয়া জাহান শেলী ডায়াবেটিক ও কিডনি রোগে আক্রান্ত ছিলেন। এরপরও সখীপুর আমলি আদালতে চলমান মামলায় তিনি ছিলেন ২নং আসামি। গত ৪ঠা এপ্রিল অসুস্থ অবস্থায় তার মা অন্য একটি মামলায় সখীপুর আমলি আদালতে উপস্থিত হয়ে জামিন প্রার্থনা করেন। জামিনের জন্য আদালতে শারীরিক অসুস্থতার সকল রিপোর্ট দাখিল করার পরও বিচারক তার জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেন। নাদীয়া জাহান শেলী অসুস্থ হওয়ায় তার সুচিকিৎসার জন্য জেল সুপারকে নির্দেশ দেন বিচারক। কিন্তু জেল সুপার মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন ও ডেপুটি জেলারসহ অজ্ঞাতনামা অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তার চিকিৎসার সুব্যবস্থা না করে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে তাকে সাধারণ কয়েদি হিসেবে জেনারেল ওয়ার্ডে রাখেন। চিকিৎসা না পেয়ে তিনি কারাগারে খুবই কষ্ট করেছেন। অবশেষে গত ৮ই এপ্রিল রাতে তিনি চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুবরণ করেন।
এরই প্রেক্ষিতে গত ১৯শে এপ্রিল তার বাবা মিনহাজ উদ্দিন বাদী হয়ে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট টাঙ্গাইল সদর থানা আমলি আদালতে মামলা দায়ের করেন। বিচারক পুলিশ সুপারকে মামলার ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের জন্য নির্দেশ দেন। সংবাদ সম্মেলনে নিহতের পাঁচ বছরের জমজ দুই ছেলে হাসান ও হোসাইন এবং মেয়ে সোনালী আক্তার উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে জেলা সুপার আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, কারাগারের ২ জন চিকিৎসক নাদীয়া জাহান শেলীর সুচিকিৎসার দায়িত্বে ছিলেন। কারাগারে তাকে সুচিকিৎসাই দেয়া হয়েছে। তিনি মারা যাওয়ার পর সকল প্রকার আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। মরদেহ নেয়ার সময় তাদের কোনো অভিযোগ ছিল না। এরপরও তারা চিকিৎসার অভাবে ওই কয়েদির মৃত্যু হয়েছে দাবি আর আমাদের আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।