‘তোমার ভোট আমি নিজে মারবো। এটা হলো সুষ্ঠু ভোট। মুসলমানের কাজ হচ্ছে, একজনে নামাজ পড়াবে, এর পেছনে আরও পাঁচ হাজার মানুষ নামাজ পড়বে। এত মানুষের ভোট দেওয়ার দরকারও নাই।’ চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত চেয়ারম্যান প্রার্থী মজিবুল হক বৃহস্পতিবার (২ জুন) নির্বাচনি প্রচারণার এক সভায় এসব কথা বলেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
মজিবুল হকের এমন বক্তব্যের ৫৪ সেকেন্ডের একটি ভিডিও যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। মুজিবুল হকের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি উপস্থিত লোকজনের সামনে মাইক্রোফোনে এ কথা বলছেন। স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার তার বাড়ির সামনে অনুষ্ঠিত এক নির্বাচনি সভায় এই বক্তব্য দিয়েছেন তিনি।
ওই ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা গেছে, ‘ভোট সুষ্ঠু করি আমরা, অসুষ্ঠু করিও আমরা। আমরা বললে সুষ্ঠু, না বললে অসুষ্ঠু। যেদিকে চাই সেদিকে। পৌরসভার ভোটের সময় আমাকে এক বিএনপি নেতা ফোন দিয়ে বলেছে, আমাকে মারতেছে, এভাবে গালি দিচ্ছে। আমি বললাম, কেন কথা বলতেছো, কথা বলিও না। সে বলে, কেউ কেউ বলতেছে কামরুল (স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী) মেয়র হবে, সুষ্ঠু ভোট হবে। আমি বলেছিলাম, সুষ্ঠু ভোট হবে সরকার লিখিত দিয়েছে নাকি? সে বলতেছে, কেন ইভিএমে ভোট হবে? আমি বলছি, ইভিএমে নিতে (ভোট) পারে না? সে বলে, না। আমি বললাম, তোমার ভোট আমি নিজে মারবো। এটা হলো সুষ্ঠু ভোট। মুসলমানের কাজ হচ্ছে একজনে নামাজ পড়াবে, এর পেছনে আরও পাঁচ হাজার মানুষ নামাজ পড়বে। এত মানুষের ভোট দেওয়ার দরকারও নাই।’
বক্তব্যের বিষয়ে নৌকা প্রতীকের এই চেয়ারম্যান প্রার্থী বাংলা ট্রিবিউনের কাছে দাবি করেন, ‘এসব ভিডিও এডিট করা। আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে।’
এর আগে তার আরেকটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। ২৯ মে ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে বলতে শোনা গেছে, ‘রিকশায় করে বা যেভাবে পারেন এসে ভোট দিন। কারণ, ইভিএমে ভোট। ইভিএম না হলে সব সিল আমিই মেরে দিতাম, কাউকে খুঁজতাম না। কথা বোঝেননি, ইভিএমে আইডি কার্ড না ঢুকালে ভোট হয় না। হলে ভোট আমি রাতেই নিয়ে নিতাম। তাই আপনাদের কষ্ট করে সেটা (জাতীয় পরিচয়পত্র) নিয়ে যেতে হবে। মেশিনে ফিংগার প্রিন্ট দিতে হবে। আপনারা কষ্ট করে কেন্দ্রে যাবেন। আঙুলের ছাপ দিয়ে ভোট দেবেন। ছাপ দিতে না পারলে সেখানে আমি ছাপ দেওয়ার মানুষ রাখবো। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন।’ ভাইরাল হওয়া ভিডিওর বিষয়ে এই চেয়ারম্যান প্রার্থীর বক্তব্য তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। তাকে শোকজও করা হয়েছিল।
সার্বিক বিষয়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা রকর চাকমা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘তার দ্বিতীয় ভিডিওটাও আজ হাতে পেয়েছি। খতিয়ে দেখছি। আগের ভিডিওর বক্তব্যের জন্য তাকে শোকজ করা হয়েছে। তিনি (মজিবুল হক) শোকজের জবাব দিয়েছেন। এতে উল্লেখ করেছেন, এ ভিডিও তার নয়, এডিট করা।’
আগামী ১৫ জুন বাঁশখালী উপজেলার ১৪ ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে ঘিরে বর্তমানে চলছে প্রচার-প্রচারণা।