চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া পুলিশ সদস্য ও তার আরেক সহকর্মীকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। পা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া পুলিশ সদস্যের নাম মো. তুহিন। তিনি সীতাকুণ্ড থানা পুলিশের কনস্টেবল। তার সঙ্গে একই থানার গুরুতর আহত কনস্টেবল কামরুলকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
এছাড়া আরও পাঁচ কনস্টেবল, ফৌজদারহাট পুলিশ ফাঁড়ির উপপরিদর্শক (এসআই) মোতাহার হোসেন এবং শিল্প পুলিশের একাধিক সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের চমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চমেক হাসপাতালে দায়িত্বে থাকা পুলিশের এএসআই আলাউদ্দিন তালুকদার বলেন, গুরুতর আহত তুহিন ও কামরুলকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
একই ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচ জন নিহত ও শতাধিক ব্যক্তি দগ্ধ হয়েছেন। দগ্ধদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের পরিচয় জানা যায়নি। শনিবার (৪ জুন) রাত সাড়ে ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
সীতাকুণ্ড থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুমন বণিক বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুলিশের ১০ সদস্যসহ অনেকে আহত হয়েছেন। এর মধ্যে গুরুতর আহত দুই পুলিশ সদস্যকে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডে পাঁচ জন নিহত হওয়ার তথ্য গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন চমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক রাজিব পালিত।
তিনি বলেন, এ পর্যন্ত পাঁচ জন নিহত হয়েছেন। দগ্ধ অবস্থায় শতাধিক ব্যক্তি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
চট্টগ্রাম ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক নিউটন দাশ বলেন, বিএম কনটেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সব ইউনিটে সেখানে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। আগুন নেভাতে আরও কয়েকটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে। চট্টগ্রাম থেকেও ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি ইউনিট আনা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কতজন হতাহত হয়েছে তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের ১৬টি ইউনিট।
ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ডিপোতে আমদানি-রফতানির বিভিন্ন মালামালবাহী কনটেইনার ছিল। ডিপোর কনটেইনারে রাসায়নিক ছিল, বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে। দ্রুত চারদিকে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় আহত হয়েছেন বেশি। আহতদের উদ্ধার করে চমেক হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।