চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বেসরকারি বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন নেভাতে গিয়ে ফায়ার সার্ভিসের আট কর্মী মারা গেছেন। তাদের মধ্যে একজন মো. আলাউদ্দিন (৩৬)। তিনি নোয়াখালীর চাটখিল উপজেলার মোহাম্মদপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের বানসা বড় মুন্সি বাড়ির আব্দুর রশিদের ছেলে।
আলাউদ্দিনের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনরা তার এই মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না। ছেলেকে হারিয়ে পাগলপ্রায় মমতাজ বেগম। লাশের আশায় বাড়িতে বসে বিলাপ করছেন তিনি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে মা মমতাজ বেগম বলেন, ‘আমার আলাউদ্দিন কই গেলো? তারে আমার কাছে আইনা দেন।’
আব্দুর রশিদ বলেন, ‘আলাউদ্দিন আমার সেজো ছেলে। সে সীতাকুণ্ডের কুমিরা ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স স্টেশনে কর্মরত ছিল। তার তিন বছরের একটা ছেলে রয়েছে।’
বড় ভাই নাসির উদ্দিন বলেন, ‘আলাউদ্দিন প্রথম ইউনিটের সদস্য হিসেবে আগুন নেভাতে গিয়েছিল। এরপর বিস্ফোরণের পর থেকে নিখোঁজ ছিল। আজ চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে তার মৃত্যুর খবর এসেছে।’
সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন নেভাতে গিয়ে শনিবার রাত থেকে রবিবার দুপুর পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের ৮ কর্মীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আরও ১৫ জন অসুস্থ অবস্থায় চট্টগ্রাম সিএমএইচে চিকিৎসাধীন আছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর দুই জনকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হচ্ছে। এ ঘটনায় মোট ৪১ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।