সীতাকুণ্ডের ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে লাইভ করতে করতে বিস্ফোরণে মৃত্যু হয় অলিউর রহমান নয়নের (২০)। এই তরুণের এমন অকাল মৃত্যুতে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় তার গ্রামের বাড়িতে শোকের মাতম বইছে।
দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলের একটু দূরে থেকে ফেসবুকে লাইভ করছিলেন নয়ন। হঠাৎ ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটলে আশপাশের সব কিছু অন্ধকার হয়ে যায়। তারপর দীর্ঘক্ষণ খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না নয়নের। দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে নয়নের মরদেহ আসে চট্রগ্রামের পার্কভিউ হাসপাতালে।
নয়ন মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের ফটিগুলী এলাকার আশিক মিয়ার ছেলে। তার মা হাসিনা বেগম বলেন, “ছেলের সঙ্গে শনিবার দুপুর ২টার দিকে শেষ কথা হয়। আমার ছেলে অনেক হাসি-খুশি অবস্থায় কথা বলছিল। বলেছিল, মা বাড়িতে আসব।”
নয়নের চাচা সুন্দর আলী বলেন, “আজ (রবিবার) সকালে আমাদের বলা হয়েছে গাড়ি নিয়ে হাসপাতালে যেতে। আমরা নয়নের লাশ আনতে চট্রগ্রামে যাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “চার ভাই ও দুই বোনের মধ্যে নয়ন ছিল সবার বড়। পরিবারের দারিদ্র্য ঘোচানোর আশায় চার মাস আগে একই গ্রামের এক ঠিকাদারের মাধ্যমে সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে শ্রমিকের কাজে যোগ দেয় সে।”
শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে চট্টগ্রামের বিএম কনটেইনার ডিপোতে হঠাৎ আগুনের ঘটনা ঘটে। এ সময় ফেসবুকে লাইভে থেকে সবাইকে আগুনের খবর প্রায় ৪১ মিনিট পর্যন্ত জানান দিচ্ছিলেন নয়ন। হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হলে হাতের মোবাইল ছিটকে পড়ে যায়। তারপর চারদিকের আহাজারি, চিৎকার শোনা গেলেও নয়ন কোথায়, কী অবস্থায় আছেন তা জানা যায়নি। সকালে স্বজনরা তার মৃত্যু সংবাদ পান।
নয়নের মৃত্যুতে পুরো গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ভাগ্য বদলের আশায় চট্রগ্রামে যাওয়া বড় ছেলের মৃত্যু বাকরুদ্ধ বাবা আশিক আলী।
কুলাউড়া কর্মধা ইউনিয়ন পরিষদের মুহিবুল ইসলাম আজাদ বলেন, “নিহতের এক চাচাতো ভাইয়ের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছি। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটিকে স্বান্তনা দিয়েছি। পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ আনার জন্য চট্টগ্রামের উদ্দেশে সকালে রওনা করেছে। তার এমন মৃত্যুতে আমার ইউনিয়নে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।”
শনিবার রাত ৯টার দিকে সীতাকুণ্ডে বিএম কন্টেইনার ডিপোতে বিকট বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর দ্রুত চারদিকে আগুন ছড়িয়ে পড়ায় বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে। এখন পর্যন্ত ৪৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে যৌথভাবে কাজ করছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন, সীতাকুণ্ড উপজেলা প্রশাসন, র্যাব, সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, রেড ক্রিসেন্ট, সিপিপি ও স্থানীয় বিভিন্ন সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনের কর্মীরা। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে শঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।
জানা গেছে, বিএম কন্টেইনার ডিপো ২৪ একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত। প্রতিষ্ঠানটি মূলত পণ্য রপ্তানিতে কাজ করে। এখান থেকে পণ্য রপ্তানির জন্য কন্টেইনারগুলো প্রস্তুত করে চট্টগ্রাম বন্দরে পাঠানো হয়। ৩৮ ধরনের পণ্য রপ্তানিতে কাজ করে প্রতিষ্ঠানটি। ঘটনার সময় সেখানে ৫০ হাজার কন্টেইনার ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। তবে অগ্নিকাণ্ডের সময় সেখানে ঠিক কত সংখ্যক মানুষ তখন ছিলেন তা এখনো সঠিকভাবে জানা যায়নি।