সাভারে সড়ক দুর্ঘটনায় বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের মৃত্যুতে আক্ষেপ প্রকাশ করে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেছেন, “একেকজন বিজ্ঞানী তৈরি করতে কত অর্থের প্রয়োজন, মানুষের ট্যাক্সের-কষ্টের কত টাকা একেকজন বিজ্ঞানীর পেছনে ব্যয় হয় তা বলাই বাহুল্য। তাদের মধ্যে একজন জ্যেষ্ঠ বিজ্ঞানী আর বাকি দুইজন মধ্যম সারির আজ মারা গেলেন। তাদের রিপ্লেসমেন্ট নাই আমাদের কাছে। এই দুঃখের কথা কাকে বলব?”
রবিবার (৫ জুন) সাভারের বলিয়ারপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় হতাহতদের স্বজনদের সঙ্গে দেখা করতে যান মন্ত্রী। এ সময় এমন আক্ষেপ শোনা যায় মন্ত্রীর কণ্ঠে।
এই স্থপতি আরও বলেন, “রাস্তা-ঘাটে আমরা ঝুঁকি নিয়ে গাড়িগুলো চালাই। সে কারণে বলি হয় সাধারণ মানুষ। শুধু তাই নয়, যারা দেশকে কিছু দিতে পারে সেই মানুষগুলোও দুনিয়া থেকে চলে যাচ্ছে। এটি খুবই দুঃখজনক ঘটনা। যারা পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন আল্লাহ তাদের বেহশত নসিব করুন। এ কথা বলা ছাড়া তো এখন আমাদের আর কিছু নেই।”
এর আগে, হাসপাতালে মন্ত্রীকে দেখে কান্নায় ভেঙে পড়েন হতাহতদের স্বজনরা। মন্ত্রী ইয়াফেস ওসমান নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। এছাড়া, প্রত্যেক আহতের কাছে গিয়ে খোঁজ-খবর নেন ।
রবিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সাভারের বলিয়াপুর এলাকায় ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে দুটি বাস ও একটি ট্রাকের ত্রিমুখী
সংঘর্ষে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা আরিফুজ্জামান, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা পূজা সরকার, প্রকৌশলী কাউসার আহম্মেদ ও পরমাণু শক্তি কমিশন স্টাফ বাসের চালক রাজিব হোসেন মারা যান। এ ঘটনায় বাসে থাকা আরও ৪০ যাত্রী আহত হয়ে চিকিৎসাধীন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ঢাকামুখী লেনে কুষ্টিয়া থেকে গরুবোঝাই ট্রাক ও সেইফ লাইন নামের একটি বাস যাচ্ছিল। সেইফ লাইনের বাসটি হঠাৎ বাঁ পাশে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাসকে ধাক্কা দেয়। এরপর ডান পাশে থাকা গরুবোঝাই ট্রাকটিকে সামনের দিকে ধাক্কা দিয়ে সড়ক বিভাজকের ওপর দিয়ে মহাসড়কের আরিচামুখী লেনে চলে আসে। পাশে জায়গা না থাকায় ট্রাকটিও সড়ক বিভাজকের ওপরে উঠে আরিচামুখী লেনে চলে আসে। এ সময় আরিচামুখী লেনে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের একটি স্টাফ বাসের সামনের দিকে সজোরে ধাক্কা দেয় সেইফ লাইনের বাসটি। স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত ব্যক্তিদের উদ্ধার করে সাভারের বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠান।