১২ দিনের ছুটি শেষে শনিবার (৪ জুন) বিকালে কর্মস্থল ফায়ার সার্ভিসের কুমিরা স্টেশনে যোগ দিতে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিলেন রাঙামাটি শহরের পশ্চিম ট্রাইবেল এলাকার বাসিন্দা মিঠু দেওয়ান। কর্মস্থলে ফেরার পর রাতেই সীতাকুণ্ড বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুনের খবর আসে। নিয়ন্ত্রণে সেখানে গিয়ে প্রাণ হারান তিনি। মিঠু দেওয়ান সীতাকুণ্ড ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের লিডার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
সোমবার (৬ জুন) সকালে তার লাশ বাড়িতে নেওয়া হয়েছে। সেখানে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে বিভাগীয় শ্রদ্ধা। তবে এমন মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না পরিবারের সদস্যরা। একটু পর পরই মূর্ছা যাচ্ছেন মিঠু দেওয়ানের স্ত্রী। স্বজনদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পশ্চিম ট্রাইবেল এলাকার বাতাস।
ছোট ভাই টিটু দেওয়ান বলেন, ‘১২ দিন ছুটি শেষে ৪ জুন বেলা ২টায় কর্মস্থলে যোগ দিতে রাঙামাটি ত্যাগ করেন দাদা। আমরা রবিবার সকালেই বিষয়টি জানতে পারি। সরকারি কাজ শেষে সোমবার সকালে লাশ বাড়িতে আনা হয়। ধর্মীয় কাজ শেষ দুপুরে দাহক্রিয়া শেষ করা হবে।’
তিনি আর বলেন, ‘দাদার একটি মেয়ে রয়েছে। সে বান্দরবান একটি কলেজে লেখাপড়া করে। দাদার মৃত্যুর পর এখন পরিবারের দেখাশোনা এবং মেয়ে ও বৌদির ভরণ-পোষণ নিয়ে চিন্তায় আছি। সরকারের পক্ষ থেকে পরিবারের প্রতি বিশেষ দৃষ্টি রাখার দাবি জানাই।’
জানা গেছে, সীতাকুণ্ডের আগুনে এই জেলার দুই ফায়ার কর্মী মারা গেছেন। অন্যজন হলেন- নিপন চাকমা। সকালে দুজনের লাশ জেলায় আনা হয়েছে। বিভাগীয় শ্রদ্ধা জানাতে শহরের ফায়ার সার্ভিস স্টেশন অফিসে নেওয়া হয় তাদের লাশ। সেখানে শেষ শ্রদ্ধা জানান সহকর্মীরা। এতে অংশ নেন– রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. মামুন, রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সহকারী পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম, রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশন অফিসার মো. বিল্লাল। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, দুপুরে ধর্মীয় অনুষ্ঠানিকতা শেষে লাশের দাহক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
রাঙামাটি ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সহকারী পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের দুই সহকর্মীকে সকালে স্টেশন অফিসে বিভাগীয় শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়। মৃত দুই পরিবারকে সরকারিভাবে ২০ হাজার টাকা এবং জেলা প্রশাসক রাঙামাটির পক্ষ থেকে ১০ হাজার করে টাকা পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঝুঁকি জেনেই আমরা এই পেশায় এসেছি। ঘটনাটি আসলেই দুঃখজনক। রাসায়নিক পদার্থ আছে, এটা না জনার কারণে এতগুলো প্রাণ ঝরে গেলো।’