চিত্রনায়ক জায়েদ খানের বিরুদ্ধে আনা ওমর সানীর অভিযোগ অস্বীকার করলেন চিত্রনায়িকা মৌসুমী। উল্টো স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যাচারের অভিযোগ তুলেছেন এই চিত্রনায়িকা। তিনি বলেন, জায়েদ খান তাকে অসম্মান করেননি। গণমাধ্যমে মিথ্যাচার করছে ওমর সানী।
এ বিষয়ে মৌসুমী বলেন, আমি মনে করি আমার প্রসঙ্গটা টানার কোনো প্রয়োজন ছিল না। আমি জায়েদকে অনেক স্নেহ করি। ও আমাকে যথেষ্ট সম্মান করে। আমাদের মধ্যে যতটুকু কাজের সম্পর্ক, সেটা খুবই ভালো একটা সম্পর্ক। সেখানে ও আমাকে অসম্মান করার কোনো প্রশ্নই ওঠে না। আর ওর মধ্যে গুণ ছাড়া এ ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানোর মতো কিছু আমি দেখিনি। ও অনেক ভালো ছেলে। সে কখনই আমাকে অসম্মান করেনি।
তিনি আরও বলেন, কেন এই প্রশ্নটা বারবার আসছে, সে আমাকে বিরক্ত করছে- উত্ত্যক্ত করছে। এই জিনিসটা আমার আসলে… জানি না এটা কেন হচ্ছে। এটা যদিও একান্ত আমাদের ব্যক্তিগত সমস্যা। সে সমস্যা আমাদের পারিবারিকভাবেই সমাধান করা দরকার ছিল।
গত শুক্রবার রাজধানীর একটি কনভেনশন হলে ডিপজলের ছেলের বিবাহোত্তর সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এক অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে। ওমর সানী দাবি করেন, শুক্রবারের ওই অনুষ্ঠানে জায়েদ খানকে চড় মেরেছেন তিনি। এ সময় জায়েদ পিস্তল বের করে তাকে গুলি করার হুমকি দেন।
তবে চড় ও পিস্তল তোলার বিষয়টি ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দিয়েছেন জায়েদ খান। ডিপজলও বলেন, পুরো বিষয়টিই ভিত্তিহীন ও অসত্য।
এদিকে রোববার (১২ জুন) বিকেলে ওমর সানী কারও নাম উল্লেখ না করেই ফেসবুকে লিখেছেন, ‘আমি ততক্ষণ নীরব থাকি যতক্ষণ না পর্যন্ত আমার আত্মসম্মানে আঘাত না লাগে।’ মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায় সানীর সেই পোস্ট। ধারণা করা হচ্ছে, জায়েদকে উদ্দেশ্য করেই পোস্টটি দিয়েছেন সানী।
অন্যদিকে এ ঘটনার তিন দিন পর মুখ খুলেছেন মৌসুমী। সংসার ভাঙার গুঞ্জনের মধ্যে মৌসুমী বলেন, জায়েদ খান তাকে অসম্মান করেননি। গণমাধ্যমে মিথ্যাচার করছে ওমর সানী।
প্রসঙ্গত, তার সংসার ভাঙার অভিযোগ করে রোববার (১২ জুন) বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতিতে এসে লিখিত অভিযোগ করেছেন ওমর সানী। সমিতির সভাপতি ইলিয়াস কাঞ্চন বরাবর অভিযোগপত্রে ওমর সানী লিখেছেন, জায়েদ খান দ্বারা আমার সংসার ভাঙা এবং আমাকে পিস্তল বের করে মেরে ফেলার হুমকি প্রসঙ্গে অভিযোগ।
ওমর সানী লিখেন, আমি ওমর সানী অত্র সমিতির একজন সদস্য এবং সাবেক কমিটির সহ-সভাপতি ছিলাম। দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে চলচ্চিত্রে অভিনয় করে আসছি। কিন্তু দুঃখের বিষয় এই যে, সমিতির সদস্য জায়েদ খান চার মাস ধরে আমার স্ত্রী আরিফা পারভীন জামান মৌসুমীকে নানাভাবে হয়রানি ও বিরক্ত করে আসছে। আমার সুখের সংসার ভাঙার জন্য বিভিন্ন কৌশলে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা করে আসছে। এ ব্যাপারে তাকে হোয়াটসঅ্যাপে মেসেজ দিয়ে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেছি।
তার প্রমাণ আমার এবং আমার ছেলের কাছেও আছে। তাছাড়া মুরুব্বি হিসেবে আমি ডিপজল ভাইয়ের কাছে এ বিষয়ে অভিযোগ করেছি। কিন্তু ওই বিষয়ের কোনো সমাধান হয়নি। ডিপজল ভাইয়ের ছেলের বিয়েতে জায়েদ খানের সঙ্গে দেখা হলে এ বিষয়ে সংযত হওয়ার জন্য আমি অনুরোধ করি। এতে সে আমার ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং হঠাৎ করে তার পিস্তল বের করে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
অতএব আমি মনে করি এমন একজন পিস্তলধারী সন্ত্রাসী বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সদস্য থাকতে পারে না। উল্লেখিত বিষয়ে বিশেষভাবে বিবেচনা-পূর্বক জায়েদ খানের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আমি বিনীত অনুরোধ করছি।